Warning: session_set_cookie_params(): Cannot change session cookie parameters when session is active in /home/kajkhuji/public_html/includes/theme/head.php on line 2
KajKhuji - বাংলা- লেকচার-৬ বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ (আধুনিক যুগ: রাজা রামমোহন রায়-গোলাম মোস্তফা)

Share:

আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান): আধুনিক যুগকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়- ১. উন্মেষ পর্ব (১৮০১-১৮৬০ খ্রী.) ও ২. বিকাশ পর্ব (১৮৬১ - বর্তমান)। গদ্য সাহিত্য হচ্ছে আধুনিক যুগের সৃষ্টি । 
আধুনিক যুগের অন্যান্য বৈশিষ্ঠ হলো: ১.গল্প ২.উপন্যাস ৩.নাটক ৪.প্রহসন ৫.প্রবন্ধ

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
• ১৮০০ সালের ৪ মে কলকাতার লালবাজারে লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। 
• ১৮০১ সালের ২৪ নবেম্বর এই কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয়। বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন পাদ্রী উইলিয়াম কেরী। উইলিয়াম কেরীর 'কথপোকথন' বাংলা ভাষার প্রথম মুদ্রিত গদ্যগ্রন্থ। উইলিয়াম কেরী ইতিহাস মালা নামে আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন। 
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অপরাপর পন্ডিতগণ হলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, চন্ডীচরণ মুন্সী, হরপ্রসাদ রায় এবং রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়। 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচনা করেন বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা, রাজাবলী। 
• রামরাম বসু রচনা করেন রাজা প্রতাপাদিত্য রচিত্র, লিপিমালা। 
• গোলকনাথ শর্মা রচনা করেন হিতোপদেশ। 
• চন্ডীচরণ মুন্সী রচনা করেন তোতা ইতিহাস। 
• হরপ্রসাদ রায় রচনা করেন পুরুষ পরীক্ষা। 
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচনা করেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।

প্রধান বাংলা সাহিত্যক এবং তাদের কর্মের পরিচয় 
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩) 
• রামকান্ত রায় ও তারিণী দেবী'র ২য় পুত্র রামমোহন রায় হুগলী জেলার রাধানগরে ১৭৭৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। 
• তার প্রথম জীবনের ভ্রমন সম্পর্কে 'তুহফাত-উল-মুজাহিদীন' এ তিনি নিজে লিখেছেন "আমি পৃথিবীর সুদূর প্রদেশ গুলিতে, পার্বত্য ও সমতলভূমিতে পর্যটন করিয়াছি"। 
• সতীদাহ প্রথা রহিতকরণে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। রাজা রামমোহন রায়ের ছদ্মনাম ছিল শিবপ্রসাদ রায়। 
• ১৮১৪ সাল থেকে স্হায়ীভাবে কলকতায় বসবাস শুরু করেন।এ সময় থেকে তিনি ধর্ম ও সহমরণ প্রথা রোধ প্রভৃতি সমাজ সংস্কার মূলক আন্দোলন শুরু করেন এবং 'ব্রাহ্মন সেবধি', 'সশ্বাদ কৌমুদি' ও 'মীরাত্উল আখবার পত্রিকা প্রকাশ করেন। 
• রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৮ সালে। 
• তার রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। এটি ইংরেজী ভাষায় লেখা হয়েছিল ১৮২৬ সালে। পরে ১৮৩৩ সালে এর বাংলা অনুবাদ হয়। 
• তিনি ফারসি ভাষার পত্রিকা 'মিরাতুল আখবার' সম্পাদনা করেন। 
• রামমোহনের রচিত গ্রন্থগুলো হল- বেদান্ত গ্রন্থ (১৮১৫), বেদান্ত সার (১৮১৫), ভট্টাচার্যের সচিত বিচার (১৮১৭), গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮), উপনিষদের অনুবাদ (১৮১৫-১৯), সহমরণ বিষয়ক 'প্রবর্তক নিবর্তক সম্বাদ (১৮১৮-১৯)' এবং পথ্য প্রদান (১৯২৩)। 
• ১৮৩২ সালে তিনি ফ্রান্সে যান এবং রাজা ফিলিপ লুই এর সাথে সাক্ষাত করেন।১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিল্পসম্মত বাংলা গদ্যের জনক। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮৪০ সালে তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা নামে স্বাক্ষর করতেন। 
• তিনি বাংলা গদ্যে ১৫টি বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন। বিদ্যাসাগরের ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কেŠমুদী'। 
• ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। 
• তিনি ১৮৪১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে পন্ডিত হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ হল- বেতাল পÂবিংশতি (১৮৪৭), শকুন্তলা (১৮৫৪), সীতার বনবাস (১৮৬০), ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯) ইত্যাদি। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ হল- প্রভাবতী সম্ভাষণ (১৮৬৩), বিদ্যাসাগর রচিত (১৮৯২), সংস্কৃত ভাষা I সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩), বিধবা বিবাহ চলিত হIয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫), বিধবা বিবাহ রহিত হIয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার (১৮৭১), অতি অল্প হইল (১৮৭৩), আবার অতি অল্প হইল (১৮৭৩), ব্রজবিলাস (১৮৮৪), রত্ন পরীক্ষা (১৮৮৬) ইত্যাদি। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত পাঠ্যবই হল- বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), কথামালা, বোধোদয় (১৮৫১), আখ্যানমঞ্জরী ইত্যাদি। 
অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬) 
• তিনি বাঙালির মধ্যে প্রথম বিজ্ঞানমনস্ক লেখক। অক্ষয়কুমার দত্ত 'তত্ত্ববোধিনী (১৮৪৩)' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) 
• ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাইকেল খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মেঘনাদ বধ (১৮৬১)' রচনা করেন। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। এ কাব্যে সর্গ সংখ্যা ৯ টি। এটি একটি বীররসের কাব্য। 
• মাইকেলের রচিত নাটকগুলো হল- শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক, পদ্মাবতী- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি, কৃষ্ণকুমারী- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি, মায়াকানন। 
• মাইকেলের রচিত কাব্যগ্রন্থ হল- দি ক্যাপটিভ লেডি (১৮৫৯)- মাইকেলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ভিসন অব দি পাস্ট, তিলোত্তমাসম্ভব (১৮৬০)- মাইকেলের প্রথম বাংলা কাব্যগ্রন্থ, চতুর্দশপদী কবিতাবলী- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনট সংকলন, বীরাঙ্গনা- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্র কাব্য, ব্রজাঙ্গনা- বৈষ্ণব পদাবলীর আধুনিক পরিণতি। 
• মাইকেলের রচিত প্রহসন হল- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোu (১৮৬০)- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, একেই কি বলে সভ্যতা। 
দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) 
• দীনবন্ধু মিত্র নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দীনবন্ধুর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হল- নীলদর্পণ (১৮৬০)- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ, নবীন তপস্বিনী, কমলে কামিনী, লীলাবতী। 
• দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলো হল- সধবার একাদশী, জামাই বারিক, বিয়ে পাগলা বুড়ো। 
• দীনবন্ধু মিত্রের জন্ম সাল ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে। 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় কাব্যগুলো : সুরধুনী কাব্য (১ম ভাগ ১৮৭১ ও ২য় ভাগ ১৮৭৬) ও দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২)। 
• দীনবন্ধু মিত্র নাট্যকার রূপে সমাধিক খ্যাত? 
• নীলকর সাহেবদের বীভৎস অত্যাচারের লাঞ্ছিত নীল চাষীদের দুরবস্থা অবলম্বনে রচিত তাঁর নাটকের নাম: নীল দর্পণ (১৮৬০)। 
• নীল-দর্পণকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয় কারণ, নাটকটির কাহিনি মেহেরপুর অঞ্চলের, দীনবন্ধু ঢাকায় অবস্থানকালে তা রচনা করেন। নাটকটি প্রথম প্রকাশ হয় ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে এবং প্রথম মঞ্চস্থও হয় ঢাকাতে। 
• নীল-দর্পণ নাটকের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কৃত ইংরেজিতে অনুবাদের নাম: Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror (1861). 
• মধুসূদন A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন? 
• ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে বঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন: সধবার একাদশী (১৮৬৬)। 
• সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসনের নাম: উত্তরঃ বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬)। 
• তাঁর রচিত অপরাপর নাটকগুলো হল নবীন তপস্বিনী (১৮৬৬), লীলাবতী (১৮৬৭), জামাই বারিক (১৮৭২), কমলে কামিনী (১৮৭৩) ইত্যাদি।

[টেকনিক: দীনবন্ধু মিত্রের নাটক ও প্রহসন: নবীন জামাই কমল সধবার একাদশীতে লীলাবতীকে নিয়ে নীলদর্পণ নাটক দেখতে গেলে এক বুড়ো তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যায়।]

ভাই গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) 
• ভাই গিরিশচন্দ্র সেন সর্বপ্রথম কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন (১৮৮১-৮৬)। 
• ৯৬ জন সূফীর জীবন কাহিনী নিয়ে ফারসী ভাষার ফরিদুদ্দিন আত্তারের 'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে রচনা করেন তাপসমালা। 
• ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের মেৌলিকগ্রন্থ হচ্ছে মহাপুরুষচরিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) 
• বাংলা সাহিত্যে তিনি 'সাহিত্যসম্রাট' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম গ্রাজুয়েট। 
• বঙ্কিমের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস (১৮৫৬)' 
• তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হচ্ছে কমলা কান্তের দপ্তর, সাম্য- এই গ্রন্থটি তিনি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেন, লোক রহস্য, মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত, বিবিধ প্রবন্ধ, কৃষ্ণচরিত, বিজ্ঞান রহস্য, ধর্মতত্ত্ব। 
• বঙ্কিম অসামান্য অবদান রাখেন উপন্যাস রচনায়। তার উপন্যাসগুলো হচ্ছে- Rajmohon's wife (1835)- এটি লেখকের প্রথম উপন্যাস, দুর্গেশ নন্দিনী (১৮৬৫)- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস, কপালকুন্ডলা- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস, কৃষ্ণকান্তের উইল, রজনী, বিষবৃক্ষ, রাজসিংহ, মৃণালিনী, ত্রয়ী উপন্যাস (সীতারাম, দেবী চেৌধুরাণী এবং আনন্দমঠ), চন্দ্রশেখর, রাধারাণী, যুগলাঙ্গুরীয় এবং ইন্দিরা।

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১/১৯১২)

• উনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ট মুসলিম সাহিত্যিক রুপে খ্যাত 'বিষাদ সিন্ধুর' অমর লেখক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ই নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। 
• মীর মোশাররফ হোসেনের বংশতালিকাঃ সৈয়দ সা'দুল্লাহ-মীর উমর দরাজ-মীর ইব্রাহীম হোসেন-মীর মোয়াজ্জম হোসেন-মীর মোশাররফ হোসেন। 
• গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্ম বিষয়ক প্রায় ৩৭টি বই রচনা করেছেন। এরমধ্যে রত্নাবতী, গৌরী সেতু, বসন্তকুমারী, নাটক জমিদার দর্পণ, সঙ্গীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, মদীনার গৌরব, বিষাদসিন্ধু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
• তিনি কাঙাল হরিণাথ মজুমদারের সাপ্তাহিক গ্রামবার্তা প্রকাশিকা পত্রিকা ও কবি ঈশ্বরগুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেন। 
• ১৮৮০ সালে তিনি নানা বাড়ী এলাকা লাহিনীপাড়া থেকে 'হিতকরী' নামের একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। 
• মীর মশাররফ হোসেনের সন্তানদের নামঃ রওশন আরা, এক কন্যা (নাম জানা যায় নাই), ইব্রাহীম হোসেন, আমিনা, সালেহা, সালেমা, আশরাফ হোসেন, ওমর দারাজ, মাহবুব হোসেন, রাহেলা ও মোসতাক হোসেন। 
• মীর মশাররফ হোসেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। 
• তাঁর প্রথম জীবনীকার ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় তাঁকে বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংগে তুলনা করেছেন। 
• তিনি 'জমিদার দর্পন' নাটক লিখে তদানীন্তনকালে অন্যতম শ্রেষ্ট নাট্যকারের মর্যদা লাভ করেন। 
• মীর মশাররফ হোসেন লিখিত গ্রন্থ: রত্নবতী (উপঃ ১৮৭৩), বসন্ত কুমারী (নাটক ১৮৭৩), জমিদার দর্পণ (নাটক ১৮৬৯), গড়াই ব্রীজ বা গৌড়ী সেতু (কবিতা গ্রন্থ ১৮৭৩), এর উপায় কি (প্রহসন ১৮৭৬), বিষাদ-সিন্ধু (ঐতিহাসিক উপন্যাস ১৮৮৫-৯১), সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭), গো-জীবন (প্রবন্ধ ১৮৮৯), বেহুলা গীতাভিনয় (গীতিনাট্য ১৮৮৯), উদাসীন পথিকের মনের কথা (জীবনী ১৮৯৯), গাজী মিয়ার বস্তানী (রম্যরচনা ১৮৯৯), মৌলুদ শরীফ (গদ্যে-পদ্যে লিখিত ধর্মীয় গ্রন্থ ১৯০০), মুসলমানের বাঙ্গালা শিক্ষা (ছাত্র পাঠ্য ১ম ভাগ ১৯০৩ এবং দিত্বীয় ভাগ ১৯০৮), বিবি খোদেজার বিবাহ (কাব্য ১৯০৫), হযরত ওমরের ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য ১৯০৫), হযরত বেলালের জীবনী (প্রবন্ধ ১৯০৫), হযরত আমীর হামজার ধর্ম জীবন লাভ (কাব্য ১৯০৫), মদিনার গৌরব (কাব্য ১৯০৬), মোশ্লেম বীরত্ব (কাব্য ১৯০৭), এসলামের জয় (প্রবন্ধ গ্রন্থ ১৯০৮), আমার জীবনী (আত্মজীবনী ১৯০৮-১০), বাজীমাত (কাব্য ১৯০৮), হযরত ইউসোফ (প্রবন্ধ গ্রন্থ ১৯০৮), খোতবা বা ঈদুল ফিতর (কাব্য ১৯০৮), বিবি কুলসুম (জীবনী ১৯১০) 
• উপরোক্ত গ্রন্থসমূহ বাদে মীর মশাররফ হোসেন লিখিত অপর ১২ খানি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এই গ্রন্থগুলো হলঃ ভাই ভাই এইত চাই (প্রহসন ১৮৯৯), ফাঁস কাগজ (প্রহসন ১৮৯৯), এ কি! (প্রহসন ১৮৯৯), টালা অবিনয় (প্রহসন ১৮৯৯), পঞ্চনারী (কাব্য), প্রেম পারিজাত (কাব্য), বাঁধাখাতা (উপঃ ১৮৯৯), নিয়তি কি অবনতি (উপঃ ১৮৯৯), রাজিয়া খাতুন (উপঃ ১৮৯৯), তহমিনা (উপঃ ১৮৯৯), গাজী মিয়ার গুলি (রম্যরচনা), বৃহত হীরক খনি (শিশু পাঠ) 
• ১৯১১ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর নিজ বাড়ী রাজবাড়ী জেলার পদমদী গ্রামে মীর মশাররফ হোসেন ইনতিকাল করলে বিবি কুলসুমের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

[টেকনিক: মীর মশাররফ হোসেন এর উপন্যাস: রত্নাবতী বিষাদসিন্ধুর পানে তাকিয়ে থাকা উদাসীন পথিকের মনের কথা বুঝতে পেরে বাঁধা খাতাটি গাজি মিয়ার বস্তানীতে রাখলেন।]

কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)

• কায়কোবাদ ১৮৫৭ (বর্তমানে বাংলাদেশ) ঢাকার জেলাতে নবাবগঞ্জ থানার অধীনে আগলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
• কায়কোবাদ ঢাকাতে পোগোজ স্কুল এবং সেইন্ট গ্রেগরী স্কুলে অধ্যয়ন করেন। 
• ১৯৩২ সালে, তিনি কলকাতাতে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলন-এর প্রধান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। 
• কাব্যগ্রন্থ: বিরহ বিলাপ (১৮৭০)(এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ), কুসুম কানন (১৮৭৩), অশ্রুমালা (১৮৯৬), মহাশ্মশান (১৯০৪)(এটি তারঁ রচিত মহাকাব্য), শিব মন্দির (১৯২১), অমিয় ধারা (১৯২৩), শ্মশানভষ্ম (১৯২৪), মহররম শরীফ (১৯৩৩)('মহররম শরীফ' কবির মহাকাব্যোচিত বিপুল আয়তনের একটি কাহিনী কাব্য), শ্মশান ভসন (১৯৩৮)

গোলাম মোস্তফা (১৮৫৭-১৯৬৪) 
• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে রক্তরাগ, হাসনাহেনা, বুলবুলিস্থান, বনি আদম, সাহারা। 
• হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর জীবনী 'বিশ্বনবী' তার শ্রেষ্ঠ রচনা।