Warning: session_set_cookie_params(): Cannot change session cookie parameters when session is active in /home/kajkhuji/public_html/includes/theme/head.php on line 2
KajKhuji - বাংলা- লেকচার-১৯ বাংলা ব্যাকরণ (ধ্বনি)

Share:

ভাষার মূল উপকরণ ধ্বনি। পৃথিবীতে বহু ভাষা ও বর্ণ আছে। এক ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় উচ্চারণ করতে গেলে ভাষার ধ্বনির সাথে পরিচয় থাকা দরকার। উচ্চারণকালে আমরা প্রধানত ধ্বনিকে অনুসরণ করি এবং ধ্বনিকে অনুসরণ করেই শব্দের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। শব্দ সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে-শব্দের লিখিত রূপের মধ্যেই চিহ্নিত হয় বর্ণ। কেননা মানুষের বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি থেকে ভাষার সৃষ্টি। এ মুখের ভাষাকে মানুষ স্থায়ীভাবে ধরে রেখে তাকে অমরত্ব দান করতে চেয়েছে। এ তাগিদ থেকেই লিখন পদ্ধতির সৃষ্টি হয়। গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনে গুহাবাসী আদিম মানুষ যখন মনের ভাব প্রকাশের জন্য ছবি আঁকা ছেড়ে দিল, তখন ধ্বনিলিপি দখল করে নিল চিত্রলিপির স্থান। ধ্বনিগুলো লিখিতভাবে প্রকাশের সুযোগ পেল। এক একটা ধ্বনির জন্য রচিত হল এক একটা বর্ণ। বর্ণের বর্ণমালা সৃষ্টি হল ধ্বনির প্রতীকরূপে।

■ ধ্বনি কিভাবে তৈরী হয়

ধ্বনি মূলত উৎপন্ন হয় মানুষের দুটি প্রত্যয়ের দ্বারা: একটি ফুসফুস, অন্যটি বাগযন্ত্র। ফুসফুস তাড়িত বাতাস গলনালী, মুখবিবর কিংবা নাক দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় বাগযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পায়। এ সংঘর্ষের স্থান, রূপ ও প্রকৃতি বিভিন্ন ধ্বনি সৃষ্টি করে।

বাগযন্ত্র : মানুষ যেসব প্রত্যঙ্গের সাহায্যে কথা বলে তাকে বাগযন্ত্র বলে। বাগযন্ত্র গুলো হচ্ছে : ১. ফুসফুস, ২. স্বরযন্ত্র, ৩. জিহ্বা, ৪. দাঁত, ৫. দাঁতের মাড়ি বা দন্তমূল, ৬. তালু, ৭. আলজিহ্বা, ৮. ঠোঁট এবং ৯. নাসাপথ।

১. ফুসফুসঃ ফুসফুসের দ্বারাই আমরা প্রতি মুহূর্তে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করি। ফুসফুসের বায়ু ছাড়া কোন বাকধ্বনি উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং ফুসফুসই ধ্বনি সৃষ্টির প্রধান উৎস।

২. স্বরযন্ত্রঃ মানুষের গলা সামনের দিকে যে উঁচু অংশটি রয়েছে তাকে বলা হয় স্বরযন্ত্র। বয়স্ক পুরুষের স্বরযন্ত্র বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায় ; কিন্তু মেয়েদের স্বরযন্ত্র বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায় না। দুটি সূক্ষ্ম তন্ত্রী রয়েছে এ স্বরযন্ত্রের মধ্যে, এ দুটিকে বলা হয় স্বরতন্ত্রী। ফুসফুসের বাতাস সর্বপ্রথম এই স্বরতন্ত্রীর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে, যার ফলে এ সূক্ষ্ম তন্ত্রী দুটি উচ্চারণ করতে আমাদেরকে বিশেষ রূপে সাহায্য করে।

৩. জিহ্বাঃ অন্যতম বাগযন্ত্র হল জিহ্বা। এ জিহ্বাকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: জিহ্বার ডগা, জিহ্বার পাতা বা সম্মুখ ভাগ, জিহ্বার পশ্চাৎ ভাগ। স্বরতন্ত্রীর মধ্য দিয়ে ফুসফুসের বায়ু নির্গত হওয়ার পরে জিহ্বার সাথে তার স্পর্শাঘাত হয়, ফলে ধ্বনি সৃষ্টি হয়।

৪. দাঁতঃ ধ্বনি সৃষ্টিতে দাঁত আমাদের বিশেষভাবে সাহায্য করে। নিচের পাটির দাঁতের চেয়ে ওপরের পাটির দাঁতই ধ্বনি সৃষ্টি করতে আমাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করে। দাঁত ফুসফুসের বাতাসকে কিছুক্ষণ ঠেকিয়ে রাখে এবং ওপরের পাটি দাঁতের পিছনে জিহ্বার ডগা ঠেকিয়ে ত, থ, দ, ধ, ইত্যাদি ধ্বনিগুলো উচ্চারণ করতে সাহায্য করে।

৫. দাঁতের মাড়ি বা দন্তমূলঃ আর একটি উল্লেখ্যযোগ্য বাগযন্ত্র হচ্ছে দাঁতের মাড়ি বা দন্তমূল। থ, দ, ধ, ন, শ এই ধ্বনিগুলো আমরা দাঁতের মাড়ির সঙ্গে জিহ্বার ডগা, জিহ্বার পাতার দুই পাশ বা জিহ্বার পিছন দিকের দুই পাশ স্পর্শ করে ধ্বনি উচ্চারণ করি। আর দাঁত না থাকলে বাতাস অবাধে বেরিয়ে যেত, কোন বাধা পেত না, ফলে কোন ধ্বনির স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হত না।

৬. তালুঃ আমাদের ওপর পাটির দাঁতের শেষ অংশ থেকে আলজিহ্বার মূল পর্যন্ত যে অংশটুকু তাকে তালু বলে। এই তালু দুই ভাগে বিভক্ত: সম্মুখ ভাগ ও পশ্চাৎ ভাগ। সম্মুখ ভাগকে শক্ত তালু এবং পিছনের ভাগকে কোমল তালু বলা হয়। ফুসফুসের বাতাস এই তালুগুলোতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েও অনেক ধ্বনি সৃষ্টি করে। যেমন: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ই, ঈ ইত্যাদি।

৭. আলজিহ্বাঃ এটি ঠিক ঘড়ির পে-ুলামের মত। একটি ছোট সুচালু মাংসখ- নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে কোমল তালুর সঙ্গে, একেই আলজিহ্বা বলে। এই আলজিহ্বাতে বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ধ্বনি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

৮. ঠোঁটঃ ঠোঁট দুই ভাগে বিভক্ত: ওপরের অংশের নাম 'ওষ্ঠ' এবং নিচের অংশের নাম 'অধর'। ঠোঁট দুটি আমাদের বহু কাজে লাগে। প্রত্যেক ধ্বনির বহিঃপ্রকাশে ঠোঁটই আমাদের প্রধান সহায়ক। সুতরাং ঠোঁট দুটি আমাদের বাগযন্ত্রের অন্তর্গত। এই ঠোঁটের সাহায্যে যেসব ধ্বনি সৃষ্টি হয় সেগুলোকে ওষ্ঠ ধ্বনি বলা হয়। যেমন: প, ফ, ব, ভ, ম, ইত্যাদি।

৯. নাসাপথ বা নাসা গহ্বরঃ নাসিকা গহ্বর বা নাসিকা ছিদ্র। নাকের ছিদ্র দুটি তালুর ও পরিভাগ দিয়ে গলনালীর সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। নাকের ডগা তেকে গলনালী পর্যন্ত এই ছিদ্র বা সুড়ঙ্গ পথকে নাসিকা গহ্বর বা নাসা পথ বলে। আমাদের ফুসফুসের বায়ু অনেক সময় মুখ দিয়ে না বেরিয়ে নাসাপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। ফুসফুসের বায়ু নাসাপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। ফুসফুসের বায়ু নাসাপথ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় যেসব ধ্বনি সৃষ্টি হয়, তাদের নাসিকা ধ্বনি বা নাসিক্য ধ্বনি বলে। যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ম ইত্যাদি।

■ ধ্বনির প্রকারভেদ

ধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার; যথা : ১.স্বরধ্বনি এবং ২. ব্যঞ্জন ধ্বনি।

১. স্বরধ্বনিঃ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরে কোথাও বাধা পায় না, তাকে স্বরধ্বনি বলে। অন্যকথায়, যে সকল ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট উচ্চারিত হয় তাদের স্বরধ্বনি বলে (স্বর ও বাক্যরীতি); যেমন: অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি।

ধ্বনি বিজ্ঞানী আবদুল হাই- এর মতে, "ধ্বনি তাত্ত্বিক দিক থেকে স্বরের দীর্ঘতম ও হ্রস্বতা বাংলা ভাষায় আবিধানিক পর্যায়ে কোন শব্দের অর্থের তারতম্য ঘটায় না, যেমন ঘটায় ইংরেজী কিংবা উর্দু ভাষাতে। তবে আবেগের তারতম্যে এক শব্দের স্বরধ্বনি ক্ষেত্র বিশেষে হ্রস্ব ও দীর্ঘভাবে উচ্চারিত হতে পারে, তাতে শব্দের মূল অর্থের কোন পার্থক্য ঘটে না। এছাড়া বাংলায় একাক্ষরিক শব্দের স্বরধ্বনির উচ্চারণ দীর্ঘ হয় অথচ দ্ব্যক্ষরিক শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির চেয়ে দ্বিতীয় স্বরের উচ্চারণ দীর্ঘ হয়।"

বাংলা স্বরধ্বনিগুলোকে উচ্চারণ অনুযায়ী দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ক. হ্রস্বস্বর এবং খ. দীর্ঘস্বর।

ক. হ্রস্বস্বরঃ যে স্বর উচ্চারণ করতে অল্প সময় লাগে, তাকে হ্রস্বস্বর বলে। যেমন: অ, ই, উ, ঋ ইত্যাদি।

খ. দীর্ঘস্বরঃ যে স্বর উচ্চারণ করতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাকে দীর্ঘস্বর বলে। যেমন: আ, ই, ঊ, ঐ, ঔ ইত্যাদি।

বাংলা স্বরধ্বনিগুলোকে আরও দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ক. মৌলিক স্বরধ্বনি এবং খ. যৌগিক স্বরধ্বনি।

ক. মৌলিক স্বরধ্বনিঃ যে স্বরধ্বনিগুলোকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। যথা: অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও ইত্যাদি।

খ. যৌগিক স্বরধ্বনিঃ যে স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময় দুটি স্বরধ্বনির প্রয়োজন হয়, তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা সন্ধিক্ষর বা দ্বিস্বর বলে। যথা: ঐ = অ + ই ; ঔ = অ + উ ইত্যাদি।

২. ব্যঞ্জনধ্বনিঃ যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায়, তাকে ব্যঞ্জন ধ্বনি বলে। অর্থাৎ যে ধ্বনি স্বয়ং স্পষ্ট উচ্চারিত হতে পারে না, উচ্চারণে স্বরধ্বনির সাহায্য নিতে হয়, তাই ব্যঞ্জন ধ্বনি। যেমন: ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণ হওয়ার সময় অন্য কোন ধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয়। অন্যকথায় অন্য কোন ধ্বনির সাহায্য ছাড়া ব্যঞ্জনধ্বনি আদৌ উচ্চারিত হতে পারে না। ব্যঞ্জনধ্বনি প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ আবদুল হাই বলেন, " যেসব ধ্বনি স্বাভাবিক পদ্ধতিতে কথাবার্তা বলার সময়ে ফুসফুস নির্গত বাতাস গলনালী, মুখবিবর কিংবা মুখের বাইরে (ঠোঁটে) বাধা পাওয়ার কিংবা শ্রুতিগ্রাহ্য চাপা খাওয়ার ফলে উদগত হয় সেগুলোই ব্যঞ্জনধ্বনি।

এ সংঙ্গার বিশ্লেষন করলে দেখা যায়: ১. যাবতীয় অঘোষ ধ্বনি; যেমন: ক, চ, স। ২. বায়ুপথ রুদ্ধ হওয়ার জন্যে যত ধ্বনি উত্থিত হয়; যেমন: গ, ট, ব, ল। ৩. যেসব ধ্বনি উচ্চারণে বাতাস মুখবিবর দিয়ে না বেরিয়ে নাসাপথে বেরোয়; যেমন: ম, ন, ভ এবং ৪. শ্রুতিগ্রাহ্য ঘর্ষণ লেগে যেসব ধ্বনি উৎপন্ন হয়; যেমন স, শ এদের সবগুলোই ব্যঞ্জনধ্বনি।

'অ' ধ্বনির সাহায্য ছাড়া ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণ হতে পারে না। যেমন: ক্ + অ = ক; খ + অ = খ; প + অ = প ইত্যাদি।

■ বর্ণ

প্রত্যেকটি ধ্বনির রয়েছে একেকটি স্বতন্ত্র রূপ। ভাব বিনিময়ের মুহূর্তে প্রতিটি ধ্বনি স্বতন্ত্র অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি করে। অর্থাৎ ধ্বনিই শ্রোতার চেতনায় সঞ্চারিত করে শব্দের মূলগত অর্থ। মানুষ মনের কথা ঘরের বা মানুষের কাছে বলে। আর দূরের মানুষকে লিখে জানায়। যে ধ্বনি আমরা একজনের কাছ থেকে আরেকজন শুনে থাকি, তাকেই একটি নির্দিষ্ট ও বাস্তব রূপ দিয়ে চোখের সামনে তুলে ধরা হয়। বাস্তব রূপে তুলে ধরার জন্য তাই কতকগুলো চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, এগুলোই বর্ণ। ধ্বনি প্রকাশক সাংকেতিক চিহ্নকে বর্ণ বলে। অর্থাৎ মনের ভাব লিখে প্রকাশ করার জন্য ভাষার যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাকে বর্ণ বলে। যেমন: অ, আ, ক, খ ইত্যাদি।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, " যে সমস্ত চিহ্নের দ্বারা উচ্চারিত ধ্বনিগুলির নির্দেশ করা হয় সেই চিহ্নগুলিকে বলে বর্ণ; যেমন: অ, ই, ক, শ, ল ইত্যাদি। বর্ণ হইতেছে ধ্বনির লিখিত রূপ, ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন বা ধ্বনির প্রতিক।"

■ বাংলা বর্ণমালা

যে কোন ভাষার ধ্বনির লিখিত বর্ণসমষ্টিকে সে ভাষার বর্ণমালা বলা হয়। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, "কোন ভাষার লিখিত যে সকল ধ্বনি-দ্যোতক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর সমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা বলে।"

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণগুলোকে একত্রে বাংলা বর্ণমালা বলা হয় এবং তাদের প্রত্যেককে বলা হয় বাংলা লিপি। ভাষা বিজ্ঞানী ও ধ্বনি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে মত দিয়েছেন যে, 'ব্রাক্ষীলিপি' থেকে বাংলা লিপি উৎপন্ন হয়েছে। বাংলা বর্ণমালার মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি। তাদের মধ্যে এগারটি স্বরবর্ণ এবং ঊনচল্লিশটি ব্যঞ্জনবর্ণ।

ক. স্বরবর্ণ : অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ → ১১ টি

খ. ব্যঞ্জনবর্ণ :

ক, খ, গ, ঘ, ঙ = ৫ টি

চ, ছ, জ, ঝ, ঞ = ৫ টি

ট, ঠ, ড, ঢ, ণ = ৫ টি

ত, থ, দ, ধ, ন = ৫ টি

প, ফ, ব, ভ, ম = ৫ টি

য, র, ল = ৩ টি

শ, ষ, স, হ = ৪ টি

ড, ঢ, য়, ৎ = ৪ টি

ং, ঃ, ঁ = ৩ টি

মোট = ৫০টি

■ বর্ণের মাত্রা

বাংলা বর্ণমালার স্বরবর্ণ কিংবা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় সোজা দাগ থাকলেই সেটাকে মাত্রা বলে। অর্থাৎ বাংলা বর্ণমালার মাথায় যে দাগ বা কসি টানা হয় তাকে মাত্রা বলে।

বাংলা ভাষায় এমন দুটি বর্ণ রয়েছে যখন সেগুলোর উপর মাত্রা থাকে না তখন সেগুলো স্বরধ্বনিকে চিহ্নিত করে। আবার যখন সেগুলোর উপর মাত্রা থাকে তখন সেগুলো ব্যঞ্জনধ্বনি চিহ্নিত করে। এ দুটো বর্ণ হচ্ছে 'এ' এবং 'ও'। এগুলোর উপর মাত্রা দেওয়া মাত্রই 'এ' এবং 'ও' সম্পূর্ণ ভিন্ন অক্ষরে রূপান্তরিত হয়ে যায় ; অর্থাৎ মাত্রাসহ 'এ' হয়ে যায় ত-য়ে র-ফলা (ত্র) এবং ও হয়ে যায় ত-য়ে-ত (ত্ত)। উল্লেখ্য, এ দুটো বর্ণ আর স্বরধ্বনি থাকে না, হয়ে যায় যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ।

বাংলা ভাষার ৫০টি বর্ণমালার মধ্যে ৩২টি পূর্ণমাত্রার বর্ণ , ৮টি অর্ধমাত্রার বর্ণ এবং ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে। নিচের ছকে তা দেখানো হলঃ

পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ক, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, দ, ন, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়

অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি:

ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ

মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি:

এ, ঐ, ও, ঔ, ৎ, ং, ঃ, ঁ

■ অক্ষর

ধ্বনি, বর্ণ ও অক্ষরকে আমরা ধ্বনিবিজ্ঞান সম্পর্কে একই জিনিস মনে করি। আসলে এগুলো একই জিনিস নয়। অক্ষর হল বর্ণের সমষ্টি।

অতএব, কোন শব্দের উচ্চারণকালে তার যে পরিমান অংশ এক সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেই পরিমান অংশকে বলা হয় অক্ষর। নিঃশ্বাসের স্বল্পতম প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ উচ্চারিত হয়, তাকেই অক্ষর বলা হয়। যেমন: 'আকাশ' এই শব্দে 'আ-কাশ' দুটি অক্ষর আছে। আবার 'উচ্চারণ' এই শব্দে তিনটি অক্ষর আছে (উচ্-চা-রণ)।

■ অক্ষরের শ্রেণীবিভাগ

অক্ষর দুই প্রকার; যথা: ক. স্বরান্ত অক্ষর এবং খ. ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর।

ক. স্বরান্ত অক্ষরঃ যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে স্বরান্ত অক্ষর বলে। যেমন:

ভাষা = ভ্ + আ + ষ্ + আ

আশা = অ + শ্ + আ

খ. ব্যঞ্জনান্ত অক্ষরঃ যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে ব্যঞ্জনান্ত অক্ষর বলে। যেমন:

শীতল = শী + তল্

পবন = প + বন্

■ বর্ণের শ্রেণীবিভাগ

বর্ণের লিখিত প্রতীক যেহেতু বর্ণ, তাই ধ্বনির সঙ্গে মিল রেখে বর্ণকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জন বর্ণ।

১.স্বরবর্ণঃ যেসব বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে, সেগুলোকে স্বরবর্ণ বলে। যেমন : অ, আ, ই, ঈ, এ, ঐ ইত্যাদি। ড. মুহাম্মদ আব্দুল হাই-এর মতে, "স্বাভাবিক কথাবার্তায় গলনালী ও মুখবিবর দিয়ে বাতাস বেরিয়ে যাবার সময় কোন জায়গায় বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে কিংবা শ্রুতিগ্রাহ্য চাপা না খেয়ে ঘোষবৎ যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাই স্বরধ্বনি ; যেমন: অ, আ। যে চিহ্নের দ্বারা এগুলো প্রকাশ করা হয় তাকে স্বরধ্বনি বরে। বাংলা ভাষার স্বরবর্ণ এগারটি; যেমন : অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ।

■ কার বা স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ

স্বরবর্ণ যখন অন্য কোন বর্ণের সাথে যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তার পূর্ণরূপ রেখা হয়। যেমন-অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।

স্বরবর্ণের এ পূর্ণরূপ শব্দের যে কোন স্থানে বসতে পারে। কিন্তু স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্তাকারে উচ্চারিত হয়, তখন তার সংক্ষিপ্ত রূপটি ব্যবহৃত হয়। স্বরবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকেই 'কার' বলা হয়। যেন: আ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ( া ), ই-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ( ি ), ইত্যাদি। স্বরবর্ণের নামেই এ সংক্ষিপ্ত রূপের নাম হয়। যেমন : আ-কার ( া ), ই-কার ( ি ), ঈ-কার ( ী ), উ-কার ( ু ), ঊ-কার ( ূ ), ঋ-কার( ৃ ), এ-কার ( ে ), ঐ-কার ( ৈ ), ও-কার ( ে ৗ ), ঔ-কার ( ে ৗ )।

অ-কারের কোন সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে উচ্চারিত হলে উক্ত বর্ণের সাথে তা মিশে থাকে। যে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে 'অ' থাকে না, সেই ব্যঞ্জন বর্ণের নিচে হসন্ত চিহ্ন ( ্ ) ব্যবহৃত হয়। যেমন: আল্সেমী। এখানে ল্- এর সঙ্গে অ-কার নেই। তবে আধুনিক বানানের ক্ষেত্রে হসন্ত চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না।

■ স্বরবর্ণে উচ্চারণ স্থান

মুখের যে অংশের সাহায্যে স্বর উচ্চারিত হয়, তা সেই স্বরের উচ্চারণে স্থান। উচ্চারণ স্থানের নামানুসারেই বর্ণগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।

 স্বরবর্ণে উচ্চারণ স্থান

মুখের যে অংশের সাহায্যে স্বর উচ্চারিত হয়, তা সেই স্বরের উচ্চারণে স্থান। উচ্চারণ স্থানের নামানুসারেই বর্ণগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।

বর্ণসমূহ উচ্চারণ স্থান উচ্চারণ স্থান অনুসারে বর্ণের নাম
অ, আ কন্ঠ কন্ঠ্য বর্ণ
ই, ঈ তালু তালব্য বর্ণ
উ, ঊ ওষ্ঠ ওষ্ঠ্য বর্ণ
মূর্ধা মূর্ধন্য বর্ণ
এ, ঐ কন্ঠ ও তালু কন্ঠতালব্য বর্ণ
ও, ঔ কন্ঠ ও ওষ্ঠ কন্ঠৌষ্ঠ্য বর্ণ

২. ব্যঞ্জনবর্ণঃ যেসব বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে না সেগুলোকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। যেমন: 'ক' এর উচ্চারণ ক্ + অ = ক; খ্ + অ = খ।

ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশটি: যথা- ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্, চ্, ছ্, জ্, ঝ্, ঞ্, ট্, ঠ্, ড্, ঢ্, ণ্, ত্, থ্, দ্, ধ্, ন্, প্, ফ্, ব্, ভ্, ম্, য্,র্ , ল্, শ্, ষ্, স্, হ্, ড়্, ঢ়্, য়্, ৎ, ং, ঃ, ঁ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনবর্ণগুলো প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত; যেমন: ১. স্পর্শ বর্ণ, ২. অন্তঃস্থ বর্ণ ও ৩. উষ্ম বর্ণ।

১. স্পর্শ বর্ণঃ 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা স্পর্শ ধ্বনি বলে। এ বর্ণগুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বার সাথে কোমল তালু, তালু, মূর্ধা প্রভৃতি কোন না কোন বাগপ্রত্যঙ্গের স্পর্শ ঘটে অথবা যে কোন দুটি বাগপ্রত্যঙ্গ কোন না কোনভাবে স্পর্শিত হয়, সেহেতু উল্লিখিত ধ্বনিগুলোকে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়। উল্লিখিত ২৫টি বর্ণকে আমরা উচ্চারণের স্থান, স্বরযন্ত্রের অবস্থা বিচার করে অথবা ফুসফুসচালিত বাতাসের চাপের স্বল্পতা ও আধিক্যের দিক থেকে ভাগ করে আলোচনা করতে পারি। এ সব বিভাজন নিম্নলিখিত তালিকায় দেখানো হল :

- - অঘোষ ঘোষ -
উচ্চারণের স্থান অনুসারে - অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ অল্পপ্রাণ মহাপ্রাণ অল্পপ্রাণ নাসিক্য
কন্ঠ ধ্বনি বা জিহ্বা মূলীয় ক-বর্গীয়
তালব্য ধ্বনি চ-বর্গীয়চ
মূর্ধন্য ধ্বনি ট-বর্গীয়ট
দন্ত ধ্বনি ত-বর্গীয়
ওষ্ঠ ধ্বনি প-বর্গীয়প

২. অন্তঃস্থ বর্ণঃ যেসব বর্ণ উচ্চারণে মুখ সম্পূর্ণখোলা থাকে না, আবার বাতাস একেবারে বন্ধও থাকে না, সেসব বর্ণকে অন্তঃস্থ বর্ণ বলে। যেমন: য, র, ল, ব। এ বর্ণগুলো স্পর্শ বর্ণ ও উষ্মবর্ণের অন্তঃ অর্থাৎ মধ্যে অবস্থিত বলে এদের নামকরণ করা হয়েছে অন্তঃস্থ বর্ণ।

৩. উষ্ম বর্ণঃ উষ্ম বা শ্বাস যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ যেসব বর্ণ উচ্চারণ করা যায়, সেসব বর্ণকে উষ্ম বর্ণ বলে। যেমন: শ, ষ, স, হ। উচ্চারণের সময় শিশ দেওয়ার মত শব্দ হয় বলে এগুলোকে শিশ ধ্বনিও বলা হয়। হ-এর উচ্চারণে উষ্মা থাকলেও তা শুদ্ধ নয়। শ, ষ, স এই তিনটি বর্ণই শুদ্ধ উষ্ম বর্ণ।উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্পর্শ বর্ণগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যেমন: ক. ঘোষ বর্ণ ও খ. অঘোষ বর্ণ।

ক. ঘোষ বর্ণঃ যেসব বর্ণ উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী রীতিমত কেঁপে ওঠে, সে বর্ণগুলোকে ঘোষ বর্ণ বলে। বর্গের শেষ তিনটি বর্ণ অর্থাৎ তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘোষ বর্ণ। এ বর্ণগুলো উচ্চারণে গাম্ভীর্য বা ঘোষ থাকে বলেই এ বর্ণগুলোর নাম ঘোষ বর্ণ। যেমন: গ, ঘ, ঙ; জ, ঝ, ঞ; ড, ঢ, ণ; দ, ধ, ন; ব, ভ, ম এবং হ।

খ. অঘোষ বর্ণঃ প্রত্যেক বর্ণের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণের ধ্বনিতে গাম্ভীর্য বা ঘোষ নেই বলে এ বর্ণগুলোকে অঘোষ বর্ণ বলে। যেমন: ক, খ; চ, ছ; ট, ঠ; ত, থ; প, ফ; শ, ষ, স।

স্পর্শ বর্ণগুলোকে আবার দুভাগে ভাগ করা হয়েছে; যেমন: ক. অল্পপ্রাণ বর্ণ ও খ. মহাপ্রাণ বর্ণ।

ক. অল্পপ্রাণঃ প্রত্যেক বর্ণের প্রথম, তৃতীয় এবং পঞ্চম বর্ণের উচ্চারণকালে এদের প্রাণ বা শ্বাস বায়ু (হ-কার জাতীয় ধ্বনি) অল্প নির্গত হয় বলে এগুলোকে অল্পপ্রাণ বর্ণ বলে। যেমন: ক, গ, ং; চ, জ, ঞ; ট, ড, ণ; ত, দ, ন; প, ব, ম ইত্যাদি।

খ. মহাপ্রাণ বর্ণঃ প্রতি বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ উচ্চারণকালে এদের সাথে প্রাণ বা শ্বাস বায়ু বেশি নির্গত হয় বলে এগুলোকে মহাপ্রাণ বর্ণ বলে। যেমন: খ, ঘ; ছ, ঝ; ঠ, ঢ; থ, ধ; ফ, ভ; হ, ঢ় ।

ঘৃষ্ট বর্ণঃ চ, ছ, জ, ঝ বর্গের উচ্চারণকালে জিহ্বা ও তালুর স্পর্শের পরেই উভয়ের মধ্যে বায়ুর ঘর্ষণজাত ধ্বনি বের হয় বলে এগুলোকে ঘৃষ্ট বর্ণ বলা হয়।

স্পৃষ্ট বর্ণঃ ক-বর্গ, ট-বর্গ ও প-বর্গের প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ণের উচ্চারণকালে মুখের বিশেষ স্থান স্পৃষ্ট হয়। তাই এ বর্ণগুলোকে স্পৃষ্ট বর্ণ বলে।

নাসিক্য বর্ণঃ ঙ, ঞ, ন, ণ, ম এই পাঁচটি ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুসতাড়িত বায়ু বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ। উল্লিখিত ৫টি ধ্বনি ছাড়াও ং, ঃ, ঁ নাসিক্য ধ্বনি।

 ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ স্থান

র্ণ উচ্চারণের স্থান উচ্চারণের স্থান অনুসারে নাম
ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ কন্ঠ বা জিহ্বামূল কন্ঠ বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ তালু তালব্য বর্ণ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ষ মূর্ধা মূর্ধন্য বর্ণ
ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স দন্ত দন্ত্য বর্ণ
প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ ঔষ্ঠ্য বর্ণ
অন্তঃস্থ ব দন্ত ও ওষ্ঠ দন্তৌষ্ঠ্য বর্ণ

 ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ

য, র, ল, ব, ম, ন, ণ প্রভৃতি ব্যঞ্জনবর্ণগুলো অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে মিলিত হয়ে সংক্ষিপ্ত রূপ গ্রহণ করে। এ সংক্ষিপ্ত রূপকে 'ফলা' বলে। যেমন :

বর্ণের নাম ফলার নাম ফলার ব্যবহার
য-ফলা ব্যতীত, ব্যয়, ব্যর্থ, ব্যবহার
র-ফলা ক্রয়, প্রিয়, বিক্রয়, ব্রক্ষ
র্ রেফ-ফলা কর্ম, ধর্ম, চর্ম, বর্ষণ, বর্ণ
ল-ফলা বিপ্লব, ক্লাশ, অম্ল
ম-ফলা আত্ম, গ্রীষ্ম, উষ্ম, বিস্ময়
ণ, ন ণ (ন)-ফলা চিহ্ন, অহ্ন, সায়াহ্ন
ব-ফলা স্বাধীন, স্বার্থ, দ্বীপ

■ ফলার উচ্চারণ

১. য-ফলাঃ

(ক) য-ফলা শব্দের প্রথমে থাকলে (অ্যা)-এর মত উচ্চারিত। যেমন: ব্যয়, ব্যবসা, ব্যবহার ইত্যাদি।

(খ) য-ফলা শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন: বিদ্যা (বিদ্দা), অব্যয় (অব্বয়) ইত্যাদি।

২. ম-ফলাঃ

(ক) ম-ফলা শব্দের আদিতে বসলে সাধারণত উচ্চারিত হয় না। যেমন: স্মরণ (সরণ), স্মরক (সারক) ইত্যাদি। তবে শব্দেরে মধ্যে যে বর্ণের সাথে মিলিত হয় সে বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন:বিস্ময় (বিস্সয়), আত্মা (আত্তা), পদ্মা (পদ্দা) ইত্যাদি।

(খ) মাঝে মাঝে আবার ম-ফলা উচ্চারিত হয়। যেমন: জন্ম (জন্ম), বাগ্মী (বাগ্মী) ইত্যাদি।

৩. ব-ফলাঃ

(ক) ব-ফলা শব্দের প্রথমে থাকলে তার উচ্চারণ বোঝা যায় না। যেমন: স্বাধীন (সাধীন), স্বার্থ (সার্থ), স্বামী (সামী) ইত্যাদি।

(খ) ব-ফলা শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে যে বর্ণের সাথে ব-ফলা মিলিত হয় সে বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন: অন্বয় (অন্নয়), বিশ্ব (বিশ্শ) ইত্যাদি।

৪. র-ফলা ও রেফ-ফলাঃ 'র' অন্য বর্ণের মাথায় বসলে রেফ (র্ ) হয়। এ বর্ণটি আগে যুক্ত হয়। যেমন: তর্ক (তর্++ক), মর্ত (ম+র+ত), কর্ষণ (ক+র+ষ+ণ) ইত্যাদি। 'র' অন্য ব্যঞ্জন বর্ণের পরে বসলে র-ফলা হয়। যেমন: ক্র (ক+র), প্র (প+র) ইত্যাদি।

■ ধ্বনির উচ্চারণ রীতি

বাংলা অ-এর উচ্চারণ সাধারণত দু'প্রকার; যেমন: ১.স্বাভাবিক ও ২. বিকৃত উচ্চারণ।

১. অ-ধ্বনির স্বাভাবিক উচ্চারণঃ

ক. শব্দের আদি না-বোধক 'অ' স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হয়; যেমন: অশোভন, অমনোযোগী, অচল, অপূর্ব ইত্যাদি।

খ. শব্দের মধ্যে অ-ধ্বনির পরে যদি আ-ধ্বনি থাকে তাহলে অ-ধ্বনি স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হয়; যেমন: অমানিশা, বলা, কলা, চলা ইত্যাদি।

গ. শব্দের মধ্যে বা অন্তের অ-কারের পূর্বে যদি ঋ, এ বা ঐ ধ্বনি থাকে তাহলে সেসব ধ্বনির পরবর্তী অ-কার স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হয়। যেমন:দেব, ধৈর্য ইত্যাদি।

২. অ-ধ্বনির বিকৃত উচ্চারণঃ

ক. শব্দের আদিতে ব্যবহৃত অ-ধ্বনির পরের ব্যঞ্জনে যদি ই, ঈ, উ বা ঊ যুক্ত হয় তাহলে পূর্ববর্তী অ-ধ্বনির উচ্চারণ ও-কারের মত হয়; যেমন- অতুল (ওতুল), অঙ্গীকার (ওঙ্গীকার), অতিকায় (ওতিকায়) ইত্যাদি।

খ. শব্দের মধ্যে বা অন্তে সংযুক্ত বর্ণ থাকলে এবং তাতে ও-কার ধ্বনি যুক্ত হলে সে অ-ধ্বনি ও-কারের মত উচ্চারিত হয়। যেমন: কলঙ্ক (কলোংক), ধর্ম (ধরমো), স্তব্ধ (স্তবধো) ইত্যাদি।

গ. চলিত বাংলা পদের অন্তঃস্থিত অ-কার উচ্চারিত হলে তা ও-কারের মত উচ্চারিত হয়। যেমন: বড় (বড়ো), ছোট (ছোটো), কাল (কালো) ইত্যাদি।

ঘ. শব্দের মধ্যে অ-কার যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি থাকলে সে অ-ধ্বনি ও-কারের মত উচ্চারিত হয়। যেমন: সরস (সরোস), পিতল (পিতোল), সকল (সকোল), নকল (নকোল) ইত্যাদি।

ঙ. কতকগুলো ন-কারন্তবিশিষ্ট শব্দে অ-ধ্বনি ও-কারের মত উচ্চারিত হয়। যেমন: বন (বোন), মন (মোন), ধন (ধোন), পণ (পোণ) ইত্যাদি।

আ-ধ্বনিঃ বাংলায় আ-ধ্বনির উচ্চারণ সব সময় দীর্ঘ হয় না; হ্রস্ব ও দীর্ঘ দুভাবেই উচ্চারিত হয়ে থাকে। একাক্ষর পদে আ-এর ওপর জোর পরে বলে উচ্চারণ দীর্ঘ হয়; যেমন:ভাত, কাল, রাত, জাম, আজ ইত্যাদি।

ই, ঈঃ বাংলায় দুটি ধ্বনির উচ্চারণই হ্রস্ব পরিলক্ষত হয়। 'কি' প্রশ্ন হলে হ্রস্ব উচ্চারণ এবং সর্বনাম ও বিশেষ্য হলে দীর্ঘ উচ্চারণ হয়। যেমন: তুমি কি যাবে? তুমি কি (কোন) বই পড়?

উ বা ঊঃ এ দুটি বর্ণের উচ্চারণে কোন পার্থক্য নেই। দ্ব্যাক্ষর শব্দের উ-এর পর 'অ' অথবা 'আ' থাকলে উ-এর উচ্চারণ ও-করের মত হয়। যেমন: উঠা (ওঠা), উঠ (ওঠ), উড়া (ওড়া) ইত্যাদি।

ঋঃ বাংলায় বিশেষ প্রচলন নেই। র- হিসেবে এর উচ্চারণ কমই দেখা যায়। তৎসম শব্দে ঋ-কারের উচ্চারণ (র+ই) রি; যেমন: ঋষি (রিশি), ঋতু (রিতু), অমৃত (অম্রিত), মৃত (¤্রতি) ইত্যাদি।

এঃ এ-কারের উচ্চারণ দু'প্রকার। যেমন: ১.প্রকৃত ও ২. বিকৃত।

১. এ-কারের প্রকৃত উচ্চারণঃ

ক. পদের অন্তে 'এ' থাকলে 'এ' যথার্থভাবে উচ্চারিত হয়; যেমন: পতে, লোভে, মিছে, রাতে, দিনে ইত্যাদি।

খ. তৎসম শব্দের আদিতে 'এ' ধ্বনি থাকলে এ-র উচ্চারণ স্বাভাবিক হয়। যেমন: প্রেম, রেখা, শেষ, দেশ ইত্যাদি।

গ. ই-কার বা উ-কারের পূর্বে এ-ধ্বনি স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হয়। যেমন: ফেরি, দেরি, বেণু, রেণু, ধেনু ইত্যাদি।

ঘ. যুক্তধ্বনি বা হ-এর পূর্বে এ-ধ্বনি থাকলে এ-ও উচ্চারণ স্বাভাবিক হয়। যেমন: কেষ্ট, দেহ, কেহ ইত্যাদি।

২. এ-ধ্বনির বিকৃত উচ্চারণঃ

ক. খাঁটি বাংলা শব্দে এ-ধ্বনি বিকৃত হয়। যেমন: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), ভেপসা (ভ্যাপসা), দেওর (দ্যাওর) ইত্যাদি।

খ. দু'অক্ষরবিশিষ্ট সর্বনাম ও অব্যয় পদে 'এ' ধ্বনি 'অ্যা'-এর মত উচ্চারিত হয়। যেমন: এত (অ্যাতো), এখন (অ্যাখোন), কেন (ক্যানো), যেন (য্যান) ইত্যাদি।

গ. চন্দ্রবিন্দু ( ঁ ) ও অনুস্বারের ( ং ) পূর্বে এ-ধ্বনি থাকলে তা বিকৃত উচ্চারণ হয়। যেমন: খেংড়া (খ্যাংড়া), লেংড়া (ল্যাংড়া), চেংড়া (চ্যাংড়া), গেজেল (গ্যাজেল) ইত্যাদি।

ঐঃ এটি যৌগিক স্বর বা সান্ধ্যক্ষর। এর উচ্চারণ 'অই' বা ওই-এর মত। যেমন: চৈতন্য, খৈ।

ওঃ সাধারণত বাংলা ও-কারের কোন বিকৃত উচ্চারণ নেই।

ঔঃ এটি যৌগিক স্বর। এর উচ্চারণ 'ওউ' বা 'অউ' -এর মত। যেমন: যৌবন, মৌ, ঔষধ ইত্যাদি।

ঙঃ ং-এর উচ্চারণ আগে ছিল 'উ' অ। বর্তমানে এর উচ্চারণ হসন্ত অবস্থায় অনুস্বার ( ং ) এর মত এবং স্বরযুক্ত অবস্থায় একটু গ-ধ্বনির স্পর্শযুক্ত। যেমন: বেঙ্ (বেং), সঙ্ (সং), বাঙ্লা (বাংলা)-হসন্ত অবস্থায়। কাঙাল (কাঙ্গাল)-স্বরযুক্ত অবস্থায়।

ঞঃ ঞ-এর উচ্চারণ 'ই' 'অ' বা য়; যেমন:মিঞা। আবার চ, ছ, জ, ঝ-এর পূর্বে থাকলে এর উচ্চারণ 'ন'-এর মত। যেমন: অঞ্চল, চঞ্চল ইত্যাদি।

শ, নঃ এ ধ্বনি দুটোর উচ্চারণ একই প্রকার।

ণঃ বিশুদ্ধ ণ-এর ধ্বনি কতকটা ড-এর মত। কেবল মূর্ধন্য বর্ণের সাথে যুক্ত হলে ণ-এর প্রকৃত উচ্চারণের কিঞ্চিত আভাস পাওয়া যায়। যেমন: ম-া, ঘন্টা ইত্যাদি।

চ, ছ, জ, ঝঃ এগুলো উচ্চারণে স্পর্শ বর্ণ এবং শ-কারের উচ্চারণ একসাথে হয় বলে এগুলোকে দ্বিব্যঞ্জন ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে।

য, র, ল, বঃ এগুলোর বিশুদ্ধ উচ্চারণ স্বর ও ব্যঞ্জন ধ্বনির মধ্যবর্তী। এগুলো খাঁটি ব্যঞ্জন বর্ণও নয় আবার এরা খাঁটি স্বরবর্ণও নয়। এজন্য 'য' ও 'ব' -কে অর্ধস্বর এবং 'র' ও 'ল' -কে তরল স্বর ও অর্ধ ব্যঞ্জনও বলে।

যঃ য-এর পূর্বে উচ্চারণ ছিল 'ই' 'অ'। এখন এর উচ্চারণ 'জ'- এর উচ্চারণের মত। ব্যঞ্জন বর্ণের পরে বসলে 'য' নিজ রূপ পরিবর্তন করে য-ফলা (্য) রূপ ধারণ করে। যেমন: বাক্য। (আধুনিক বাংলায় য-এর সাথে বিন্দু যুক্ত হয়ে 'য়' হয়েছে)।

রঃ জিহ্বার অগ্রভাগ কম্পিত করে এ-ধ্বনি উচ্চারিত হয় বলে একে কম্পনজাত ধ্বনি বলে।

লঃ ল-এর উচ্চারণকালে জিহ্বার দু'পাশ দিয়ে বায়ু বের হয় বলে একে পার্শ্বিক বর্ণ বলে।

য়ঃ য়-এর প্রকৃত উচ্চারণ 'উ' 'অ' (ইংরেজি ড); আহ্বান, বিহ্বল প্রভৃতি শব্দে প্রকৃত উচ্চারণের কিছু আভাস এখনও পাওয়া যায়। অন্যত্র বর্তমানে বর্গীয় ব-এর উচ্চারণের সাথে এর উচ্চারণ অভিন্ন।

শ, ষ, সঃ এগুলোর উচ্চারণে বর্তমানে পার্থক্য করা হয় না। তবে শরীর, খুশি প্রভৃতি শব্দে 'শ':এর এবং হর্ষ, বিষ্ণু প্রভৃতি শব্দে 'ষ'-এর প্রকৃত উচ্চারণের এখনও কিছুটা আভাস পাওয়া যায়।

ড়, ঢ়ঃ এ বর্ণ দুটোর যর্থাথ উচ্চারণ প্রায়ই হয় না। জিহ্বার নি¤œভাগ দিয়ে দন্তমূলে তাড়না করে এগুলোকে উচ্চারণ করতে হয় বলে এগুলোকে তাড়নাজাত ধ্বনি বা তাড়িত ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।

হঃ হ-এর প্রকৃত উচ্চারণ অনেক সময় হয় না। যতক্ষণ শ্বাস থাকে, ততক্ষণ শ, ষ, স-এর মত একেও প্রলম্বিত করা যায়। তাই 'হ' উষ্ম ঘোষ বর্ণ।

ং (অনুস্বার): অনুস্বার ( ং ) পূর্বে যে বর্ণের সাথে বসত, সে স্বরবর্ণকে আংশিক সানুনাসিক করে তুলত। বাংলায় বর্তমানে 'ঙ' হিসেবে এর উচ্চারণ। বর্তমানে 'ং' এবং 'ঙ' সহজেই স্থান বিনিময় করে থাকে।

ঃ (বিসর্গ): এটি এক প্রকার ধ্বনির অনুরূপ অঘোষ ধ্বনি। বাংলায় পদের শেষে প্রায়ই অনুচ্চারিত থাকে, একমাত্র বিস্ময়য়াদি প্রকাশক অব্যয়ে এ ধ্বনি শ্রুত হয়, পদ মধ্যবর্তী হলে পরবর্তী ব্যঞ্জনকে দ্বিত্ব করে দেয়। যেমন:বিশেষত (অনুচ্চারিত), আঃ (বিস্ময়সূচক), দুখ্খ (দুঃখ)।

ঁ (চন্দ্রবিন্দু): এ চিহ্নটি স্বরধ্বনিকে সানুনাসিক করে।

■ যুক্তাক্ষর

পর পর দুটি বা তার বেশি ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝে স্বরবর্ণ না থাকলে সে বর্ণগুলোকে একসাথে লেখা হয় বলে এ বর্ণগুলোকে যুক্তক্ষর বা যুক্তবর্ণ বলা হয়। এরূপ যুক্তবর্ণের মূল বা আকৃতি পরিবর্তন হয়। যেমন: জ+ঞ = জ্ঞ। এখানে 'জ' এবং 'ঞ' যুক্তবর্ণে পরিণত হওয়ায় এর আকৃতির পরিবর্তন ঘটেছে। সংযুক্ত বর্ণ বিভিন্নভাবে গঠিত হয়। নি¤েœ কতিপয় সংযুক্ত বর্ণের আকৃতি দেখানো হল ঃ

একই বর্ণযোগে গঠিত যুক্তবর্ণ

ক্ + ক = ক্ক মক্কেল, আক্কেল, ছক্কা।
ল্ + ল = ল্ল বল্লাম, জল্লাদ, চল্লাম।
জ্ + জ = জ্জ লজ্জা, সজ্জা, ইজ্জত।
ন্ + ন = ন্ন অন্ন, ভিন্ন, উন্নয়ন।
চ্ + চ = চ্চ উচ্চ, সাচ্চা, বাচ্চা।
ব্ + ব = ব্ব আব্বা, মহব্বত, জুব্বা।
ড্ + ড = ড্ড বড্ড, উড্ডয়ন, আড্ডা।
ম্ + ম = ম্ম আম্মা, সম্মান।
দ্ + দ = দ্দ খদ্দর, ভদ্দর, উদ্দেশ্য।
ট্ + ট = ট্ট ঠাট্টা, চট্টগ্রাম।

বিভিন্ন বর্ণযোগে গঠিত যুক্তবর্ণ

ঙ + গ = ঙ্গ বঙ্গ, সঙ্গী।
প + স = প্স বীপ্সা, জগুপ্সা।
চ্ + ছ = চ্ছ তুচ্ছ, ইচ্ছা, কেচ্ছা, আচ্ছা।
প্ + ত = প্ত দপ্তর. দপ্তরী, সপ্ত।
ন্ + দ = ন্দ মন্দ, আনন্দ, পছন্দ।
ন্ + ত = ন্ত অন্তর, শান্ত, অনন্ত।
ব্ + দ = ব্দ শব্দ, শতাব্দী, জব্দ, অব্দ।
দ + ধ = দ্ধ বৃদ্ধ, যুদ্ধ, ক্রুদ্ধ।
ঞ্ + চ = ঞ্চ অঞ্চল, বঞ্চনা।
স্ + ক = স্ক সংস্কার, তিরস্কার।
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ বাঞ্ছা, বাঞ্ছিত।
স্ + ত = স্ত প্রস্তাব, বাস্তব, ব্যস্ত।
ঞ + জ = ঞ্জ পুঞ্জ, খঞ্জ, অঞ্জন।
ষ্ + ক = ষ্ক পরিষ্কার, আবিষ্কার।
ণ্ + ট = ণ্ট বণ্টন, কণ্টক, ঘণ্টা।
ষ্ + ট = ষ্ট কষ্ট, নষ্ট, স্পষ্ট।
ণ্ + ঠ = ণ্ঠ কণ্ঠ, লণ্ঠন, কুণ্ঠা।
ষ্ + ঠ = ষ্ঠ পৃষ্ঠা, কনিষ্ঠ, ষষ্ঠ।
ন্ + ড = ন্ড আ-া, ঠা-া, গ-ার।
স্ + থ = স্থ স্বাস্থ্য, সুস্থ।
ন্ + ধ = ন্ধ বন্ধ, রন্ধন, অন্ধ।
স্ + প = স্প ষ্পষ্ট, অস্পষ্ট।
ম্ + প = ম্প কম্পন, কম্প।
শ্ + চ = শ্চ পশ্চিম, আশ্চর্য়।
ম্ + ব = ম্ব অম্বল, সম্বল।
ক + ষ = ক্ষ কক্ষ, ক্ষণ, অক্ষ।
ম্ + ফ = ম্ফ লম্ফ, ঝম্ফ।
হ + ব = হ্ব আহ্বান, বিহ্বল।
ল্ + প = ল্প অল্প, গল্প, কল্পনা।
হ + ম = হ্ম ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ।
ষ্ + প = ষ্প পুষ্প।
হ + ন = হ্ন চিহ্ন, মধ্যাহ্ন।

তিন বর্গের সংযুক্ত বর্ণের রূপ

স্ + ত্ + র = স্ত্র শাস্ত্র, অস্ত্র।
চ্ + ছ্ + ব = চ্ছ্ব উচ্ছ্বাস।
ক্ + ষ্ + য = ক্ষ্য লক্ষ্য।
ঙ্ + ক্ + ষ = ক্সক্ষ আকাক্সক্ষা।
জ্ + জ্ + ব = জ্জ্ব উজ্জ্বল।
স্ + থ্ + য = স্থ্য স্বাস্থ্য।
ন্ + দ্ + ব = ন্দ্ব দ্বন্দ্ব।
ন্ + ধ্ + য = ন্ধ্য সন্ধ্য।
ন্ + ত্ + র = ন্ত্র মন্ত্র, যন্ত্র।
ত্ + ত্ + ব = ত্ত্ব মহত্ত্ব
ন্ + দ্ + র = ন্দ্র চন্দ্র।

■ সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণের নিয়ম

ক্ষঃ

১. শব্দের আদিতে 'ক্ষ' থাকলে উচ্চারণ 'খ' এর ত হয়। যেমন: ক্ষমা (খমা), ক্ষয় (খতি), ক্ষতি (খতি) ইত্যাদি।

২. শব্দের মাঝে বা শেষে 'ক্ষ' থাকলে 'ক্খ'-এর মত হয়। যেমন: অক্ষয় (অক্খয়), লক্ষ (লক্খ) ইত্যাদি।

জ্ঞঃ

১. শব্দের আদিতে 'জ্ঞ' থাকলে 'গ্যঁ' -এর মত উচ্চারিত হয়। যেমন: জ্ঞান (গ্যাঁন) ইত্যাদি।

২. 'জ্ঞ' শব্দের মাঝে বা শেষে থাকলে গ্গঁ -এর মত উচ্চারিত হয়। যেমন: বিজ্ঞ (বিগ্গঁ), অজ্ঞ (অগ্গঁ) ইত্যাদি।

ঞ্চঃ ঞ্চ-এর উচ্চারণ 'নচ' -এর মত হয়। যেমন: অঞ্চল (অনচল্), চঞ্চল (চন্চল) ইত্যাদি।

হ্মঃ আগে বসলে 'ম'-এর মত উচ্চারণ হয়। যেমন: ব্রাহ্মণ (ব্রাম্হন)।

হ্নঃ প্রথমে বসলে 'ন'-এর মত উচ্চারণ হয়। যেমন: চিহ্ন (চিন্হ)।

■ বর্ণ বিশ্লেষণ

যে যে বর্ণ যোগে শব্দ গঠিত হয় সেগুলোর প্রত্যেকটি আলাদা করে দেখানোর নামই বর্ণ বিশ্লেষণ। যেমন:

বই = ব্ + অ + ই

কলম = ক্ + অ + ল্ + অ + ম্ + অ

টেবিল = ট্ + অ + এ + ব্ + অ + ই +ল্ +অ

চেয়ার = চ্ + অ + এ + য়্ + অ + আ +র্ + অ

কলা = ক্ + অ + ল্ + অ + আ

কাগজ = ক্ + অ + আ + গ্ + অ +জ্ +অ

পেন্সিল = প্ + অ + এ + ন্ + অ + স্ + অ + ই + ল্ + অ

■ ধ্বনি পরিবর্তন

ধ্বনি পরিবর্তন উন্নয়নশীল জীবন্ত ভাষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি উন্নয়শীল জীবন্ত ভাষারই ধীরে ধীরে এবং অলক্ষ্যে পরিবর্তন সাধিত হতে থাকে। বাংলা ভাষাও উন্নয়নশীল ও জীবন্ত। এ ভাষার চলিত রূপ সহজ ও চটুল। এ জন্য অনেক তৎসম, অর্ধ-তৎসম, দেশী ও বিদেশী শব্দ বাংলায় এসে উচ্চারণ ও ধ্বনি পরিবর্তন করে আশ্রয় লাভ করেছে। দেখা গেছে কখনও কোন শব্দের পাশাপাশি উচ্চারিত দুটো ধ্বনি একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আবার কখনও বা পাশাপাশি দুটো ধ্বনির মধ্যে পরস্পরের স্থান পরিবর্তন ঘটেছে অথবা একটির হয়ত বিলোপ সাধিত হয়েছে, অথবা শব্দের আদিতে সম্পূর্ণ নতুন কোন ধ্বনির আগমন ঘটেছে। এভাবে কোন ধ্বনির আগমন, স্থান পরিবর্তন অথবা বিলোপকে ধ্বনি পরিবর্তন বলা হয়।

বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের বিশেষ কতকগুলো রীতি বা নিয়ম রয়েছে। নিচে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

১. স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষঃ উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনকে ভেঙে এর মধ্যে স্বরধ্বনি আনয়ন করাকে বলা হয় স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ। যেমন:

প্রীতি ˃ পিরীতি (শব্দের মাঝে ই-কার এসেছে)।

মুক্তা ˃ মুকুতা (শব্দের মাঝে উ-কার এসেছে)।

অনুরূপভাবে বর্ষণ˃বরিষণ, শ্রী˃ছিরি, গর্ব˃গরব, ভক্তি˃ভকতি, জন্ম˃জনম, ধর্ম˃ধরম ইত্যাদি।

২. স্বরসঙ্গতিঃ একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: শিয়াল˃শেয়াল, ইচ্ছা˃ইচ্ছে, ধুলা˃ধুলো ইত্যাদি। স্বরসঙ্গতি বিভিন্ন প্রকার; যেমন:

ক. প্রগতঃ আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: শিকা˃শিকে, মুলা˃মুলো ইত্যাদি।

খ. পরাগতঃ অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: দেশি˃দিশি, আখো˃আখুয়া˃এখো ইত্যাদি।

গ. মধ্যগতঃ আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি˃বিলিতি।

ঘ. অন্যান্যঃ আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর এই দু'স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: মোজা˃মুজো।

ঙ. চলতি বাংলায় স্বরসঙ্গতিঃ পূর্বস্বর ই-কার হলে পরবর্তী স্বর আকার হয় না, এ-কার হয়। যেমন: গিলা˃গেলা, মিঠা˃মিঠে ইত্যাদি। পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর আকার হয় না, ও-কার হয়। যেমন: চুলা˃চুলো, মুড়া˃মুড়ো ইত্যাদি।

৩. স্বর-সঙ্কোচঃ বিশেষ করে বাংলা চলিত ভাষায় একই শব্দের দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি থাকলে কোন কোন সময় উভয় মিলে একটি স্বর হয়, তাকে স্বরসঙ্কোচ বলে। যেমন: যাইবে˃যাবে, হইবে˃হবে ইত্যাদি।

৪. অপিনিহিতিঃ শব্দস্থিত ব্যঞ্জনবর্ণের পরবর্তী ই-কার বা উ-কার যথাস্থানে উচ্চারিত না হয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে অপিনিহিতি বলে। যেমন: আশু˃আউশ, কলাই˃কাইল, রাতি˃রাইত, বাছিয়া˃বাইছা, সাধু˃সাউধ, আজি˃আইজ, বাক্য˃বাইক্য, সত্য˃সইত্য ইত্যাদি।

৫. অভিশ্রুতিঃ যখন অপিনিহিতির কারণে আগত স্বরের সাথে তার পূর্বস্বরের সন্ধিতে একটি তৃতীয় স্বর উৎপন্ন হয়, তখন তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমন: রাখিয়া˃রাইখে˃রেখে, বাদিয়া˃বাইদা˃বেদে, মাছুয়া˃মাইছা˃মেছো, করিয়া˃কইরা˃করে, বলিয়া˃বাইলা˃বেলে, কাঁদিয়া˃কাঁইদা˃কেঁদে, জালিয়া˃জাইলিয়া˃জেলে ইত্যাদি।

৬. স্বরাগমঃ শব্দের প্রথমে সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য এর আগে একটি স্বরধ্বনির আগমন ঘটার রীতিকে স্বরাগম বলে। যেমন: স্কুল˃ইস্কুল, স্টেশন˃ইস্টিশন, স্পর্ধা˃আস্পর্ধা, স্টার˃ইস্টার, স্টিমার˃ইস্টিমার, স্ত্রী˃ইস্ত্রী ইত্যাদি।

কোন কোন সময় শব্দের মধ্যে বা অন্তে স্বরের আগমন ঘটে থাকে। তখন তাকে মধ্যস্বরাগম ও অন্ত্যস্বরাগম বলে। যেমন:

মধ্য স্বরাগমঃ উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণকে ভেঙে এর মাঝখানে স্বরধ্বনির আনয়নকে মধ্য স্বরাগম বলা হয়। যেমন: মর্ম˃মরম, গ্রাম˃গেরাম, শ্রাদ্ধ˃ছেরাদ্ধ, ¯েœহ˃সিনেহ, দর্শন˃দরিশন, ক্লেশ˃কিলেশ, গ্লাস˃গেলাস।

অ: হর্ষ˃হরষ, স্বপ্ন˃স্বপন, ধর্ম˃ধরম, রত্ন˃রতন ইত্যাদি।

ই: ক্লিপ˃কিলিপ, ফিল্ম˃ফিলিম, প্রীতি˃প্রিরীতি ইত্যাদি।

উ: ভ্রূ˃ভুরু, তুর্ক˃তুরুক, যুক্তি˃যুক্তি, মুক্ত˃মুক্ত

ও: মুরগ˃মুরোগ˃মোরগ, শ্লোক˃শোলক ইত্যাদি।

অন্ত্য স্বরাগমঃ অন্তশব্দের অন্তে স্বরধ্বনির আগমনকে অন্ত্য স্বরাগম বলে। যেমন: পোখ্ত˃পোক্ত, দিশ্˃দিশা, বেঞ্চ˃বেঞ্চি ইত্যাদি।

৭. সমীকরণ বা সমীভবনঃ দুটি পাশাপাশি ভিন্ন বর্ণ একটি অন্যটির প্রভাবে এক রকম হলে তাকে সমীকরণ বা সমীভবন বলে। যেমন: কর্ম˃কম্ম, গল্প˃গপ্প, ধর্ম˃ধম্ম, বদজাত˃বজ্জাত, কঁদনা˃কান্না, লোনা˃নোনা ইত্যাদি।

৮. বর্ণ বিপর্যয়ঃ শব্দ মধ্যস্থিত ব্যঞ্জনগুলো উচ্চারণকালে অনেক সময় স্থান বিনিময় করে, এরুপ বর্ণের স্থান পরিবর্তন করার রীতিকে বর্ণ বিপর্যয় বলে। যেমন: পিশাচ˃পিচাশ, মুকুট˃মুটুক, বারানসী˃বানারসী, রিকশা˃রিশকা, বাক্স˃বাস্ক ইত্যাদি।

৯. বিষমীভবন বা অসমীকরণঃ শব্দ মধ্যস্থিত দুটি সমধ্বনির একটির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বিষমীভবন বা অসমীকরণ বলে। যেমন: শরীর˃শরীল, লাল˃নাল, ললাট˃নলাট ইত্যাদি।

অনেক সময় একই শব্দের পুনরাবৃত্তি দূরীকরণার্থে মাঝখানে স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অসমীকরণ বলে। যেমন: টপটপ˃টপাটপ, গপগপ˃গপাগপ ইত্যাদি।

১০.বর্ণদ্বিত্বঃ উচ্চারণের সময় একই বর্ণ দুবার উচ্চারিত হলে তাকে বর্ণদ্বিত্ব বলে। যেমন: বড়˃বড্ড, ছোট˃ছোট্ট ইত্যাদি।

১১. বর্ণলোপঃ শব্দ মধ্যস্থিত কোন ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণকালে লুপ্ত হওয়ার রীতিকে বর্ণলোপ বলে। যেমন: সিপাহী˃সিপাই, বধূ˃বউ, ফলাহার˃ফলার, মালদহ˃মালদা ইত্যাদি।

১২. সমাক্ষর লোপঃ একই ধ্বনি একই শব্দে একের বেশি থাকলে সেগুলোর একটি মাত্র অবশিষ্ট থেকে অন্যগুলো লোপ পাওয়ার রীতিকে সমাক্ষর লোপ বলে। যেমন: ছোটদিদি˃ছোটদি, বড়দিদি˃বড়দি, ছোটদাদা˃ছোটদা, বড়কাকা˃বড়কা ইত্যাদি।

১৩. বর্ণ বিকৃতিঃ উচ্চারণকালে শব্দস্থিত স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণ নতুন রূপ লাভ করলে তাকে বর্ণ বিকৃতি বলে। যেমন: কপাট˃কবাট, ধোপা˃ধোবা, কাক˃কাগ ইত্যাদি।

১৪. দীর্ঘব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বঃ উচ্চারণে জোর দিবার জন্য কখনও কখনও শব্দস্থিত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ ঘটে; এ রীতিকে দীর্ঘব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে। যেমন: সকাল˃সক্কাল, পাকা˃পাক্কা ইত্যাদি।

১৫. র-কার লোপঃ কখনও কখনও পদের মাঝে 'র' লোপ পেয়ে পরের বর্ণের দ্বিত্ব হয়; এ রীতিকে র-কার লোপ বলে। যেমন: তর্ক˃তক, করলাম˃কল্লাম, মারল˃মাল্ল ইত্যাদি।

১৬. হ-কার লোপ ঃ শব্দের মধ্যস্থিত হ-কার লুপ্ত হওয়ার রীতিকে হ-কার লোপ বলে। যেমন: পুরোহিত˃পুরুত, সাহা˃সা, চাহে˃চায়, গাহিলা˃গাইলা, কহিল˃কইল ইত্যাদি।

১৭. অন্তর্হতিঃ পদের মধ্যস্থিত কোন ব্যঞ্জনধ্বনির লোপ হলে তাকে অন্তর্হতি বলে। যেমন: ফাল্গুন˃ফাগুন, আলাহিদা˃আলাদা ইত্যাদি।

১৮. সম্প্রকর্ষঃ বিযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্য হতে স্বরবর্ণ লুপ্ত করে এগুলোকে এক যুক্তব্যঞ্জনে পরিণত করার রীতিকে সম্প্রকর্ষ বলা হয়। যেমন: বসতি˃বস্তি, গৃহিণী˃গিন্নী, জানালা˃জান্লা ইত্যাদি।

১৯. নাসিক্য ভবনঃ নাসিক্য ব্যঞ্জনের লোপ ঘটলে নাসিক্য ব্যঞ্জনের পূর্বস্বর ধ্বনিটি অনুনাসিক হয়ে যায়; একে নাসিক্য ভবন বলে। যেমন: চন্দ্র˃চন্দ˃চাঁদ।

২০. ক্ষীণায়নঃ শব্দ মধ্যস্থিত মহাপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনিতে পরিণত হলে তাকে ক্ষীণায়ন বলে। যেমন: পাঁঠা˃পাঁটা, কাঠ˃কাট ইত্যাদি।

২১. পীনায়নঃ শব্দ মধ্যস্থিত কোন অল্পপ্রাণ ধ্বনি মহাপ্রাণ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে পীনায়ন বলে। যেমন: কাঁটাল˃কাঁঠাল, পুকুর˃পুখুর ইত্যাদি।

২২. শ্রুতিধ্বনিঃ দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় এরই মধ্যে একটি নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারিত হয়। এরূপ রীতিকে শ্রুতিধ্বনি বলে। যেমন: মা + এর˃মায়ের।

শ্রুতিধ্বনি দু'প্রকার; যেমন: ক. য়-শ্রুতি ও খ, ব-শ্রুতি।

ক. য়-শ্রুতিঃ পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য য়-এর আবির্ভাব ঘটলে তাকে য়-শ্রুতি বলে। যেমন: গা + এর˃গায়ের, দুই + এর˃দুয়ের, বই + এর˃বইয়ে ইত্যাদি।

খ. ব-শ্রুতিঃ পাশাপাশি দুটি স্বরের মধ্যে যদি অন্তঃস্থ ব-ধ্বনি (ওয়)-এর আবির্ভাব ঘটে, তবে তাকে ব-শ্রুতি বলে। যেমন: বা + আ˃বাওয়া, ধো + আ˃ধোওয়া, শো + আ˃শোওয়া, খা + আ˃খাওয়া ইত্যাদি।