Warning: session_set_cookie_params(): Cannot change session cookie parameters when session is active in /home/kajkhuji/public_html/includes/theme/head.php on line 2
KajKhuji - বাংলা- লেকচার-২১-২: বাংলা ব্যাকরণ (শব্দ গঠন)

Share:

■ শব্দ গঠন

শব্দ ভাষার ঐশ্বর্যময় সম্ভার। এই ঐশ্বর্যময় শব্দসম্ভারে অর্থবোধক শব্দই হচ্ছে বস্তু, ভাব বা অনুভূতির প্রতীক। এই প্রতীকের সাহায্যে রচিত হয় বাক্য। শব্দের অর্থ বৈচিত্র্যের জন্য তার রূপ ও রূপান্তর সাধন করা হয়। এভাবে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্য শব্দ তৈরী করার প্রক্রিয়াকে এক কথায় শব্দ গঠন বলা হয়।

অতএব, যেসব রীতিতে সাধিত শব্দ গঠিত হয় সেসব রীতিকে শব্দ গঠন রীতি বলে।

বিভিন্ন ভাবে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার গড়ে উঠেছে। গঠন পদ্ধতির দিক থেকে প্রধানত ৪ ভাগে বাংলা শব্দ গঠিত হয়। যেমন: ক. উপসর্গ যোগে শব্দ গঠন, খ. প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন, গ. সমাসের মাধ্যমে শব্দ গঠন, ঘ. সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠন।

■ উপসর্গ যোগে শব্দ গঠন

যেসব অব্যয় কৃদন্ত বা নাম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে সে শব্দগুলোর অর্থের প্রসার, সংকোচন বা নানাবিধ পরিবর্তন সাধন করে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে তাদের উপসর্গ বলে। উপসর্গ স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং এগুলো নিজের কোন অর্থ প্রকাশ করতে পরে না। উপসর্গ অন্য শব্দের পূর্বে বসে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থ প্রকাশ করে। যার জন্য একই উপসর্গ ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। সে জন্য বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা ভাষার উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ১. সংস্কৃত উপসর্গ, ২. খাঁটি বাংলা উপসর্গ এবং ৩. বিদেশী উপসর্গ।

১. সংস্কৃত উপসর্গঃ অনেক সংস্কৃত শব্দ পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে, এগুলোকে সংস্কৃত উপসর্গ বলে। সংস্কৃত উপসর্গ মোট ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, অনু, অব, নির, দুর, অভি, বি, অধি, সু, উৎ, অতি, নি, প্রতি, পরি, অপি, উপ, আ ইত্যাদি।

সংস্কৃত উপসর্গ যোগে শব্দ গঠনঃ

প্র প্রকার, প্রগতি, প্রজন্ম, প্রণাম, প্রতাপ, প্রদক্ষিণ, প্রত্যেক, প্রকৃষ্ট, প্রয়োগ, প্রভাব ইত্যাদি।
পরা পরাজয়, পরাভব, পরাধীন, পরাকাষ্ঠা, পরাগ, পরামর্শ, পরাজিত, পরাবর্তিত, পরাক্রম, পরাহত ইত্যাদি
অপ অপকার, অপব্যয়, অপমৃত্যু, অপকর্ম, অপঘাত, অপরাত, অপগত, অপচয়, অপবাদ, অপলাপ, ইত্যাদি।
সম্ সম্মতি, সম্প্রতি, সম্ভাষণ, সংগীত, সংস্কার, সম্পদান, সংক্শে, সংগ্রহ, সঞ্চার, সংঙ্গা, সংবাদ, সম্মান ইত্যাদি।
অনু অনুসার, অনুপাত, অনুরাগ, অনুকার, অনুরোধ, অনুগ্রহ, অনুক্রম, অনুঙ্গা, অনুপাত, অনুমান, অনুবাদ ইত্যাদি।
অব অবস্থা. অবতার, অবদান, অবগত, অবনত, অবলম্বন, অবসর, অবজ্ঞা, অবরোধ, অবকাশ, অবহেলা ইত্যাদি।
নির রিপরাধ, নিরন্তন, নিরভিমান, নিরতিশয়, নির্গম, নির্দেশ, নির্দয়, নির্জন, নির্মল, নির্ভয়, নির্ণয় ইত্যাদি।
দুর দুর্জয়, দুর্ভাগ্য, দুর্লভ, দুর্জন, দুরাশা, দুর্ভিক্ষ, দুর্দিন, দুর্ব্যবহার, দুর্গম, দুর্গতি, দুর্বার, দুর্নীতি ইত্যাদি।
অভি অভিমুখ, অভুত্থান, অভিযোগ, অভিসার, অভিশাপ, অভিনয়, অভিধান, অভিভূত ইত্যাদি।
বি বিয়োগ, বিজয়, বিজন, বিনয়, বিষম, বিস্মৃত, বিখ্যাত, বিতৃষ্ণা, বিকাশ, বিগ্রহ, বিচার, বিধান, বিরাগ,বিষাদ ইত্যাদি।
অধি অধিপতি, অধীশ্বর, অধিগত, অধ্যাত্ম, অধ্যাস, অধিষ্ঠান, অধিনায়ক, অধিকার, অধিবাস, অধিবেশন ইত্যাদি।
সু সুন্দর, সুচারু, সুপেয়, সুশ্রী, সুকোমল, সুফলা, সুনাম, সুগম, সুতীক্ষè, সুস্থ, সুভা, সুভাষ, সুলভ, সুদিন, সুজলা, সুর্কীতি ইত্যাদি।
উৎ উৎকন্ঠা, উৎকর্ণ, উৎসর্গ, উৎপাদন, উৎকর্ষ, উৎকোচ, উৎক্ষেপ, উদ্দেশ্য, উৎপন্ন, উৎসব, উচ্চারণ, উজ্জ্বল ইত্যাদি।
অতি অতিমানব, অতিক্রম, অতিকায়, অত্যল্প, অতীন্দ্রিয়, অত্যাচার, অতিশয়, অত্যন্ত, অতিরিক্ত ইত্যাদি।
নি নিকৃষ্ট, নিবৃত্তিনিবাস, নির্গম, নিশ্চয়, নিবারণ, নিরোগ, নিকট, নিমজ্জন, নিচয়, নিদান, নিপাত, নিয়োগ, নিরাশ্রয় ইত্যাদি।
প্রতি প্রতিকার, প্রতিবাদ, প্রতিক্রিয়া, প্রতীক্ষা, প্রতিনিধি, প্রতীক, প্রতিফল, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ইত্যাদি।
পরি পরিধান, পরিহাস, পরিণত, পরিচয়, পরিপূর্ণ, পরিপাক, পরিবর্তন, পরিশিষ্ট, পরিণাম ইত্যাদি।
অপি অপিনিহিতি, অপিধান, অপিনদ্ধ, অপিচ ইত্যাদি।
উপ উপকথা, উপক্রম, উপনদী, উপসাগর, উপত্যকা, উপগ্রহ, উপজাত, উপদেশ, উপনিবেশ, উপকার, উপহার, উপবাস ইত্যাদি।
আক্রমন, আগমন, আবেশ, আদেশ, আরম্ভ, আদান, আকন্ঠ, আকর, আকার, আতপ, আসমুদ্র, আশ্চর্য ইত্যাদি।

২. খাঁটি বাংলা উপসর্গঃ সংস্কৃতে যেমন ২০টি উপাদান আচ্ছে, বাংলাতেও তেমনি বেশ কয়েকটি উপসর্গের প্রচলন দেখা যায়। তবে সংস্কৃত উপসর্গে সাথে বাংলা উপসর্গের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সংস্কৃত উপসর্গ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে ধাতুর অর্থকে বদলে দেয়। তাই শব্দের অর্থও বদলে যায়। কিন্তু বাংলা উপসর্গগুলো সরাসরি শব্দের আগে বসে এবং নতুন শব্দ গঠন করে। বাংলা উপসর্গ অ-তৎসম শব্দের আগে বসে। খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি। যথা: অ, অজ, অঘা, অনা, আ, আন, আড়, আব, ইতি, ঊন, কুম কুদ, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা ইত্যাদি।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে শব্দ গঠন

অমিল, অকাজ, অবেলা, অপয়া, অজানা, অচিন, অঝোর, অঘোর, অমানুষ, অথই, অতল, অসীম, অসুন্দর, অবেলা, অশান্তি, অফুরন্ত, অদেখা, অযাত্রা, অব্যয়, অপাত্র, অযথা, অসুবিধা , অবাঙালি, অনড়, অস্থি, অপয়া, অকেজো, অনামী ইত্যাদি।
অজ অজমূর্খ, অজপাড়াগাঁ ইত্যাদি।
অঘা অঘাচী, অঘারাম ইত্যাদি।
অনা অনাবৃষ্টি, অনামুখো, অনাসৃষ্টি, অনাদায়, অনাদর ইত্যাদি।
আকাটা, আধোয়া, আসিদ্ধ, আভাজা, আঘাটা, আকাল, আগাছা, আলুনি, আমূল, আভাঙ্গা, আপাকা, আকাঁড়া ইত্যাদি।
আন আনমনা, আনকোরা, আনচান, আনসেলাই ইত্যাদি।
আড় আড়নয়ন, আড়চোখ, আড়পাগল, আড়মোড়া ইত্যাদি।
আব আবডাল, আবছায়া ইত্যাদি।
ইতি ইতিহাস, ইতিকথা, ইতিকর্তব্য ইত্যাদি।
ঊন ঊনপাঁজুরে, ঊনবিংশ, ঊনভাত, ঊনবর্ষা ইত্যাদি।
কু কুকথা, কুচিন্তা, কুমুক্তি, কুঅভ্যাস, কুজন ইত্যাদি।
কদ কদাকার, কদবেল, কর্দয, কদাচার ইত্যাদি।
নি নিখরচা, নিখাদ, নির্জলা, নির্ভেজাল, নির্ভরসা, নিভাঁজ, নিটোল, নিখুঁত, নিলাজ, নিষ্ফল, নিস্তার, নিবাস, নিয়ম, নিহত, নিস্পন্দ ইত্যাদি।
পাতি পাতিহাঁস, পাতিকাক, পাতিলেবু, পাতিকুয়া ইত্যাদি।
বি বিদেশ, বিকাল, বিফল, বিকল, বিসদৃশ, বিজন, বিয়োগ, বিরূপ, বিদেশী, বিজোড়, বিপথ, বিভূঁই ইত্যাদি।
ভর ভরসাঁঝ, ভরদিন, ভরদুপুর, ভরবেলা, ভরপেট, ভরসন্ধ্যা ইত্যাদি।
রাম রামছাগল, রাপদা, রামশিখা, রামপাঁঠা, রামকেলী, রামশালীক, রামদোলাই ইত্যাদি।
সবল, সলাজ, সরব, সঠিক, সুপত্র, সস্ত্রীক, সজল, সটাল, সদেখ, সকাতর, সক্ষম ইত্যাদি।
সা সাজোয়ান, সামরিক, সমান্ত, সামর্থ, সামগ্রী ইত্যাদি
সু সুসময়, সুনজর, সুখবর. গুদিন, সুলভ ইত্যাদি।
হা হা-ঘরে, হাভাতে, হাহুতাশ, হাহাকার, হাপিতোশ ইত্যাদি।

৩. বিদেশী উপসর্গঃ বাংলা উপসর্গের মত বিদেশী উপসর্গগুলোও শব্দের আগে বসে। যেমন:

ফি ফিবার, ফিরোজ, ফিদিন, ফিবছর, ফিষিন ইত্যাদি।
হর হররোজ, হরদিন, হরসাল, হরবেলা ইত্যাদি।
গর গরহজম, গররাজি, গরহাজির, হরমিল ইত্যাদি।
হেড হেড-চাপরাশী, হেড-প-িত, হেড-অফিস, হেড-মিস্ত্রী ইত্যাদি।
না নাবালক, নামঞ্জুর, নারাজ, নাকাল, নাচার, নাছোড়বান্দা ইত্যাদি।
বকলম, বনাম, বমাল ইত্যাদি।
বদ বদরাগী, বজ্জাত, বদমেজাজী, বদমাইস, বদনাম, বদনসিব, বদগন্ধ, বদখেয়াল, বদভ্যাস ইত্যাদি।
ফুল ফুলহাতা, ফুলটিকিট, ফুলশার্ট, ফুলপ্যান্ট, ফুলটাইম, ফুলবাবু ইত্যাদি।
হাফ হাফ-হাতা, হাফ-টাইম, হাফ-শার্ট, হাফ-প্যান্ট, হাফ-নেতা ইত্যাদি।
সাব সাব-জজ, সাব-রেজিস্ট্রার, সাব-অফিস ইত্যাদি।
নিম নিমরাজী, নিমমুখ, নিম-হাকিম, নিম-মোল্লা ইত্যাদি।
বর বরখাস্ত, বরবাদ, বরদাস্ত, বরখেলাপ ইত্যাদি।
কার কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারদানি ইত্যাদি।
খাস খাসকামরা, খাসমহল ইত্যাদি।
খোস খোসগল্প, খোসমেজাজ, খোসগন্ধ ইত্যাদি।
দর দরখাস্ত, দরপত্তনী, দরদালান, দরপাট্টা ইত্যাদি।

■ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন

বাংলা ভাষায় বহু শব্দের ও ধাতু (ক্রিয়ার মূল) ব্যবহার আছে। কিন্তু একই মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে কোন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়। অতএব, যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দ বা ধাতুর শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে প্রত্যয় বলে। যেমন:

ক. শব্দের শেষেঃ হাত + উড়ি (প্রত্যয়) = হাতুড়ি; ঢাকা + আই (প্রত্যয়) = ঢাকাই ইত্যাদি।

খ. ধাতুর শেষেঃ কৃ (ধাতু) + তব্য (প্রত্যয়) = কর্তব্য; চল্ (ধাতু) + অন্ত (প্রত্যয়) = চলন্ত ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় প্রত্যয় দুই প্রকার। যথা: ১. কৃৎ প্রত্যয় বা ধাতু প্রত্যয় এবং ২. তদ্ধিত প্রত্যয় বা শব্দ প্রত্যয়।

১. কৃৎ প্রত্যয়ঃ ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন: র্ক + আ = করা, চল্ + অন্ত = চলন্ত, মাত্ + আল = মাতাল ইত্যাদি।

২.বাংলা কৃৎপ্রত্যয়ঃ বাংলা ভাষায় অনেক ধাতু রয়েছে, যেগুলো প্রকৃত ভাষা থেকে এসেছে। এসব ধাতুর সাথে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত কিছু প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বা ধাতু প্রত্যয় বলে।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠনঃ

'০' শূন্য প্রত্যয়ঃ ধাতুর উত্তর যে-কোন প্রত্যয় না হয়ে অর্থ 'অ' বা শূন্য প্রত্যয় যোগে নাম শব্দ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বা বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: √ঝুল + অ = ঝুল, র্মা + ০ = র্মা।

√কাদ্ + অ = কাঁদ 'অ' প্রত্যয়ঃ
√পড়্ + অ = পড়  
মুড়্ + অক = মোড়ক 'অক' প্রত্যয়ঃ
ফাট্ + অক = ফাটক  
বৈঠ্ + অক = বৈঠক  
চড়্ + অক = চড়ক  
সড় + অক = সড়ক  
চট্ + অক = চটক  
র্ফি + অত = ফেরত 'অত' প্রত্যয়ঃ
বস্ + অত = বসত  
মান্ + অত = মানত  
জান্ + অত = ঝানত  
হাজ্ + অত = হাজত  
√চল্ + অন = চলন 'অন' প্রত্যয়ঃ
√বাঁধ + অন = বাঁধন  
মাজ + অন = মাজন  
বেল + অন = বেলন  
ঝুল + অন = ঝুলন  
গা + অন = গাওনা  
যা + অন = যাওনা  
দে + অনা = দেনা 'অনা' প্রত্যয়ঃ
গা + অনা = গাওনা  
বাট্ + অনা = বাট্না  
দোল্ + অনা = দোলনা  
রাঁধ্ + অনা = রান্না  
গাহ্ + অনা = গাওনা  
যাচ্ + আই = যাচাই 'আই' প্রত্যয়ঃ
বড়্ + আই = বড়াই  
মিঠ্ + আই = মিঠাই  
বাছ + আই = বাছাই  
লড়্ + আই = লড়াই  
চড়্ + আও = চড়াও 'আও' প্রত্যয়ঃ
পাকড় + আও = পাকড়াও  
র্ঘি + আও = ঘেরাও  
দোল্ + আও = দোলাও  
মান্ + আন = মানান 'আন' প্রত্যয়ঃ
জান্ + আন = জানন  
ভাস্ + আন = ভাসান  
চাল্ + আন = চালান  
পড়্ + ই = পড়ি 'ই' প্রত্যয়ঃ
হাস্ + ই = হাসি  
খা + ই = খাই  
যা + ই = যাই  
ডুব্ + আরি =ডুবারি 'আরি' প্রত্যয়
কাট্ + আরি = কাটারি  
ধনু + আরি = ধুনারি  
পূজ + আরি = পূজারি  
সাঁত + আরু = সাঁতারু 'আরু' প্রত্যয়ঃ
ডুব্ + আরু = ডুবারু  
খুঁজ্ + আরু = খোঁজারু  
ভোজ্ + আরু = ভোজারু  
√রাখ্ + আল = রাখাল 'আল' প্রত্যয়ঃ
√মাত্ + আল = মাতাল  
√মিশ + আল = মিশাল  
মিশ + আল = মিশালী 'আলি' প্রত্যয়ঃ
রাখ্ + আল = রাখালি  
'ইয়া ˃ ইয়ে' প্রত্যয়ঃ  
কহ্ + ইয়া = কহ্ইয়া ˃ কইয়ে  
কাঁদন + ইয়া = কাঁদনিয়া ˃ কাঁদুনে  
বাজ্ + ইয়ে = বাজিয়ে  
খাট্ + অনি =খাটনি 'অনি' প্রত্যয়ঃ
ঢাক্ + অনি = ঢাকনি  
জ্বল + অনি = জ্বলনি  
বাঁধ + অনি = বাঁধনি  
ছাক্ + অনি = ছাকনি  
চাহ্ + অনি = চাহনি  
কাঁপ্ + অনি = কাঁপনি  
গাঁথ + অনি = গাঁথনি  
√চল্ + অন্ত = চলন্ত 'অন্ত' প্রত্যয়ঃ
√জীব্ + অন্ত = জীবন্ত  
√ফুট্ + অন্ত = ফুটন্ত  
√ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত  
√উঠ্ + অন্ত = উঠন্ত  
√বাড়্ + অন্ত = বাড়ন্ত  
√পড়্ + অন্ত = পড়ন্ত  
√ডুব্ + অন্ত = ডুবন্ত  
পিছ্ + অল = পিছল 'অল' প্রত্যয়ঃ
ফাট্ + অল = ফাটল  
জি + অল = জিঅল  
হি + অল = হিজল  
র্ধ + আ = ধরা 'আ' প্রত্যয়ঃ
দেখ্ + আ =দেখা  
কাট্ + আ = কাটা  
হাস্ + আ = হাসা  
বাধ্ + আ = বাধা  
√ডাক্ + উ = ডাকু 'উ' প্রত্যয়ঃ
√উড়্ + উ = উড়-  
√ঝড়্ + উ = ঝড়-  
খাড়্ + উ = খাড়-  
মিশ্ + উক = মিশুক 'উক' প্রত্যয়ঃ
হিংসা + উক = হিংসুক  
চুম্ + উক = চুমুক  
পড় + উক = পড়-ক  
ডুব্ + উরী =ডুবুরী 'উরী' প্রত্যয়ঃ
ধন্ + উরী = ধনুরী  
পড়্ + উয়া = পড়ুয়া 'উয়া' প্রত্যয়ঃ
চল্ + উয়া = চলুয়া  
সাজ্ + উয়া = সাজুয়া  
খা+ উয়া = খাওয়া  
খট্ + কা = খটকা 'কা' প্রত্যয়ঃ
হেঁচ্ + কা = হেঁচকা  
কেঁচ্ + কা = কেঁচকা  
মট্ + কা = মটকা  
মুড়্ + কি = মুড়িক 'কি' প্রত্যয়ঃ
সড়্ + কি = সড়কি  
মুচ্ + কি = মুচকি  
র্ফি + তা = ফিরতা 'তা' প্রত্যয়ঃ
জান্ + তা = জানতা  
পড়্ + তা = পড়তা  
র্ধ + তা = ধরতা  
চল্ + তি = চলতি 'তি' প্রত্যয়ঃ
উঠ্ + তি = উঠতি  
কম্ + তি = কমতি  
বাড়্ + তি = বাড়তি  
বাট্ + না = বাটনা 'না' প্রত্যয়:
ঢাক্ + না = ঢাকনা  
শুক্ + না = শুকনা  
রাঁধ্ + না = রান্না  
কাদ্ + না = কান্না  

খ. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে আগত বহু শব্দ আছে। এসব শব্দ সংস্কৃত প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে। সাধুর সাথে যেসব প্রত্যয় যোগ হয় সেগুলোকে সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় বলে। সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে বাংলায় পরিবর্তিত রূপ পেয়েছে। সংস্কৃত ধাতুর সঙ্গে বিভিন্ন কৃৎ প্রত্যয় যোগ হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠন করে। যেমন:

√গম্ + অনীয় = গমনীয় 'অনীয়' প্রত্যয়ঃ
√দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়  
বর + অনীয় = বরণীয়  
√কৃ + অনীয় = করণীয়  
স্মর + অনীয় = স্মরণীয়  
√কৃ + তব্য = কর্তব্য 'তব্য' প্রত্যয়ঃ
মনু + তব্য = মন্তব্য  
গম্ + তব্য = গন্তব্য  
বক্ + তব্য = বক্তব্য  
দা + তব্য = দাতব্য  
ভবি + তব্য = ভবিতব্য  
বস্ + অ = বাস 'অ' প্রত্যয়ঃ
লাভ্ + অ = লাভ  
দহ্ + অ = দাহ  
নশ্ + অ = নাশ  
র্প + অ = পার  
যগ্ + অ = যাগ  
ভ্রম্ + তি = ভ্রান্তি 'তি' প্রত্যয়ঃ
শম্ + তি = শান্তি  
ভজ্ + তি = ভক্তি  
যুত্ + তি = যুক্তি  
মুচ্ + তি = মুক্তি  
বচ্ + তি = উক্তি  
দীপ্ + তি = দীপ্তি  
দৃশ্ + তি = দৃষ্টি  
জ্ঞ + তি = জ্ঞাতি  
কৃ + তি = কৃতি  
শক্ + তি = শক্তি  
গম্ + তি = গতি  
মন্ + তি = মতি  
হা + তি = হাতি  
জন্ + অক = জনক 'অক' প্রত্যয়ঃ
গৈ + অক = গায়ক  
পোষ্ + অক = পোষক  
নৈ + অক = নায়ক  
কৃ + অক = কারক  
নৃত্ + অক = নর্তক  
পাল্ + অক = পালক  
পাঠ্ + অক = পাঠক  
ভক্ষ + অক = ভক্ষক  
সাধ্ + অক = সাধক  
ভজ্ + অন = ভজন 'অন' প্রত্যয়ঃ
র্ক + অন = করণ  
গম্ + অন = গমন  
শী + অন = শয়ন  
দা + অন = দান  
পা + অন = পান  
বি + ধা + তা = বিধাতা 'তা' প্রত্যয়ঃ
নী + তা = নেতা  
শ্রু + তা = শ্রোতা  
কৃ + তা = কর্তা  
দা + তা = দাতা  
জি + তা = জেতা  
বচ্ + তা = বক্তা  
দৃশ্ + তা = দ্রষ্টা  
হন্ + তা = হন্তা  
মৃ + ত = মৃত 'ত' প্রত্যয়ঃ
ভী + ত = ভীত  
গম্ + ত = গত  
ভূ + ত = ভূত  
দৃশ্ + ত = দৃষ্ট  
মুচ্ + ত = মুক্ত  
পূজ্ + ত = পূজিত  
উৎ + নস্ + ত = উন্নত  
কৃ + ত = কৃত  
ক্ষুধ + ত = ক্ষুধিত  
মুহ্ + ত = মুগ্ধ  
শী + ত = শায়িত  
সুন্ + ত = সুপ্ত  
ভিদ্ + ত = ভিন্ন  
গণ + ত = গণিত  
ভিদ্ + ত = ভিন্ন  

৩. তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ শব্দের পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: ঢাকা + আই = ঢাকাই, লাঠি + আল = লাঠিয়াল, জেঠা + আমি = জেঠামি ইত্যাদি।

তদ্ধিত প্রত্যয়কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়; যথা: ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়, খ. সংস্কৃত তদ্ভিত প্রত্যয় এবং গ. বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়।

ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: সংস্কৃত ও বিদেশী প্রত্যয়ের বাইরে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব তদ্ধিত প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। এ প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়। যেমন

'অই' প্রত্যয়ঃ  
পাঁচ + অই = পাঁচই দশ্ + অই = দশই
'অক' প্রত্যয়ঃ  
দোল্ + অক দোলক চড়্ + অক =চড়ক
সড়্ + অক =সড়ক ঢোল্ + অক = ঢোলক
নোল্ + অক = নোলক  
'অট' প্রত্যয়ঃ  
সাপ + অট্ = সাপট র্ভ + অট্ = ভরাট
জমা + অট্ = জমাট মলা + অট্ = মলাট
দাপ্ + অট্ = দাপট তুল্ + অট = তুলট
'আন'/'অনো' প্রত্যয়ঃ  
হাত্ + আন = হাতান জুতা + আন = জুতান
পেঁচ্ + আনো = পেঁচানো  
'আমি' প্রত্যয়  
র্ঘ + আমি = ঘরামি বাঁদর + আমি = বাঁদরামি
ছেলে + আমি = ছেলেমি  
'অড়' প্রত্যয়ঃ  
পাক্ + অড় = পাকড় তুখ্ + অড় = তুখড়
চাপ্ + অড় = চাপড় ভাঙ + অড় = ভাঙ্গাড়
'আর'/'আরি' প্রত্যয়  
ছুতা + আর = ছুতার কাঁস্ + আরি = কাঁসারি
লোহ্ + আর = লোহার শাঁখ্ + আরি = শাঁখারি
সোন্ + আর = সোনার ভিখ্ + আরি = ভিখারি
পূজা + আরি = পূজারি  
'অন' প্রত্যয়ঃ  
দাঁত + অন = দাঁতন নানা + অন = নানান
মাজ + অন = মাজন মত্ + অন = মতন
পাঁচ + অন = পাঁচন পিছ্ + অন = পিছন
'আল'/'আলি' প্রত্যয়ঃ  
পাঁক + আল = পাঁকাল মিতা + আলি = মিতালি
র্ধা + আল = ধারাল সোন্ + আলি = সোনালি
দুধ্ + আল = দুধাল মেয়ে + আলি = মেয়েলি
তেজ্ + আল = তেজাল  
'অল' প্রত্যয়ঃ  
আদ্ + অল = আদল বাউ + অল = বাউল
তাত্ + অল = তাতল দীঘ্ + অল = দীঘল
বাদ্ + অল = বাদল হাত্ + অল = হাতল
'ই' প্রত্যয়ঃ  
চালাক্ + ই = চালাকি বড় মানুষ + ই = বড় মানুষি
আর্মি + ই = আমিরি ডাকাত + ই = ডাকাতি
নবাব + ই = নবাবি বাহাদুর + ই = বাহাদুরি
'আ' প্রত্যয়ঃ  
র্গো + আ = গোরা বাঘ্ + আ = বাঘা
কাল্ + আ = কালা রাম্ + আ = রামা
ফাঁক + আ = ফাঁকা শ্যাম + আ = শ্যামা
বাঁক + আ = বাঁকা চাষ্ + আ = চাষা
খাল + আ = খালা চীন্ + আ = চীনা
'ঈ' প্রত্যয় ঃ  
কাজ্ + ঈ = কাজী হিসাব + ঈ = হিসাবী
দরদ্ + ঈ = দরদি আলাপ + ঈ = আলাপী
দাম্ + ঈ = দামী  
'আই' প্রত্যয়ঃ  
চাটা + আই = চাটাই কান্ + আই = কানাই
মাল + আই = মালাই মোগ্ল + আই = মোগলাই
মিঠ + আই = মিঠাই র্চো + আই = চোরাই
রাম্ + আই = রামাই পাটনা + আই = পাটনাই
ঢাকা + আই = ঢাকাই লড়া + আই = লড়াই
'জাত' প্রত্যয়ঃ  
গৃহ + জাত = গৃহজাত বাজার + জাত = বাজারজাত
গোলা + জাত = গোলাজাত  
'পনা' প্রত্যয়ঃ  
গিন্নি + পনা = গিন্নিপনা সতী + পনা = সতীপনা
'পিছু' প্রত্যয়ঃ  
ঘর + পিছ = ঘরপিছ মাথা + পিছ = মাথাপিছু
'ময়' প্রত্যয়ঃ  
বাড়ি + ময় = বাড়িময় দেশ + ময় = দেশময়
'সই' প্রত্যয়  
মানান্ + সই = মানানসই যুৎ + সই = যুৎসই
'আচ' প্রত্যয়ঃ  
ছা + আচ = ছাঁচ কানা + আচ = কানাচ
ছোঁয়া + আচ = ছোঁয়াচ মানা + আচ = মানাচ
'আচি' প্রত্যয়:  
বেঙ+ আচি = বেঙাচি ঠেং + আচি = ঠেঙাচি

খ. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ঃ সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সাথে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন:

'অ (ষ্ণ) প্রত্যয়ঃ  
কুরু + ষ্ণ = কৌরব স্মৃতি + ষ্ণ = স্মার্ত
পুত্র + ষ্ণ = পৌত্র ব্যাকরণ + ষ্ণ = বৈয়াকরণ
বিষ্ণু + ষ্ণ = বৈষ্ণব তিল + ষ্ণ = তৈল
দেব + ষ্ণ = দৈব গুরু + ষ্ণ = গৌরব
পশু + ষ্ণ = পাশব শিশু + ষ্ণ = শৈশব
মধুর + ষ্ণ = মাধুর বন্ধু + ষ্ণ = বান্ধব
'ইত' প্রত্যয়ঃ  
ফল্ + ইত = ফলিত ক্ষুধা + ইত = ক্ষুধিত
দুঃখ + ইত = দুঃখিত  
'ইল' প্রত্যয়ঃ  
জটা + ইল = জটিল ফেন্ + ইল = ফেনিল
পঙ্ক + ইল = পঙ্কিল  
'ইন' প্রত্যয়ঃ  
সুখ্ + ইন = সুখিন পাপ্ + ইন = পাপী
ধন + ইন = ধনী বল্ + ইন = বলী
জ্ঞান + ইন = জ্ঞানী  
'বিন' প্রত্যয়ঃ  
মেধা + বিন = মেধাবী তাপস + বিন = তপস্বী
তেজস + বিন = তেজস্বী  
ই (ষ্ণি) প্রত্যয়ঃ  
দশরথ + ষ্ণি = দাশরথি সুমিত্রা + ষ্ণি = সৌমিত্রি
রাবণ + ষ্ণি = রাবণি  
'ইষ্ঠ' প্রত্যয়ঃ  
গুরু + ইষ্ঠ = গরিষ্ঠ লঘু + ইষ্ঠ = লঘিষ্ট
ষ (ষ্ণ্য) প্রত্যয়ঃ  
দিতি + ষ্ণ্য = দৈত্য প্রাচী + ষ্ণ্য = প্রাচ্য
আদিতি + ষ্ণ্য = আদিত্য গ্রাম + ষ্ণ্য = গ্রাম্য
কবি + ষ্ণ্য = কাব্য গো + ষ্ণ্য = গব্য
সুন্দর + ষ্ণ্য = সৌন্দর্য বণিক + ষ্ণ্য = বাণিজ্য
ঈশ্বর + ষ্ণ্য = ঐশ্বর্য সভা + ষ্ণ্য = সভ্য
বীর + ষ্ণ্য = বীর্য সেনা + ষ্ণ্য = সৈন্য
'তর' প্রত্যয়ঃ  
লঘু + তর = লঘুতর মহৎ + তর = মহত্তর
গুরু + তর = গুরুতর বৃহ + তর = বৃহত্তর
'তম' প্রত্যয়ঃ  
লঘু + তম = লঘুতম ক্ষুদ্র + তম = ক্ষুদ্রতম
'ময়' প্রত্যয়ঃ  
স্বর্ণ + ময় = স্বর্ণময় বাক্ + ময় = বাঙময়
ধাতু + ময় = ধাতুময় চি + ময় = চিন্ময়
জল + ময় = জলময়  
এয় (ষ্ণেয়) প্রত্যয়ঃ  
ভগিনী + ষ্ণেয় = ভাগিনেয় অতিথি + ষ্ণেয় = আতিথেয়
গঙ্গা + ষ্ণেয় = গাঙ্গেয় অগ্নি + ষ্ণেয় = আগ্নেয়
মতুপ (মৎ), বতুপ (বৎ) প্রত্যয়ঃ  
ভক্তি + মতুপ = ভক্তিমান জ্ঞান + বতুপ = জ্ঞানবান
'তন' প্রত্যয়ঃ  
পুরা + তন = পুরাতন চির + তন = চিরন্তন
পূর্ব + তন = পূর্বতন  
ঈয় (ষ্ণীয়) প্রত্যয়ঃ  
শাস্ত্র + ষ্ণীয় = শাস্ত্রীয় স্বর্গ + ষ্ণীয় = স্বর্গীয়
আত্মা + ষ্ণীয় = আত্মীয় জাত + ষ্ণীয় = জাতীয়
'তা' প্রত্যয়ঃ  
চিতুর + তা = চতুরতা কাতর + তা = কাতরতা
সৎ + তা = সত্তা মধুর + তা = মধুরতা
ঈন প্রত্যয়ঃ  
পূর্বকাল + ঈন = পূর্বকালীন সম্মুখ + ঈন = সম্মুখীন
ষ্ণিয়্ (ইক) প্রত্যয়ঃ  
দিন + ষ্ণিয় = দৈনিক দর্শন + ষ্ণিয় = দার্শনিক
লোক্ + ষ্ণিয় = লৌকিক তর্ক + ষ্ণিয় = তার্কিক
দেব + ষ্ণিয় = বৈদিক  
'ইমন্' প্রত্যয়ঃ  
প্রিয় + ইমন = প্রেমন্ (প্রেম) গুরু + ইমন্ = গরিমা
মহৎ + ইমন্ = মহিমা লঘু + ইমন্ = ষঘিমা
নীল + ইমন্ = নীলিমা  
'শালিন, প্রত্যয়ঃ  
ধন + শালিন্ = ধনশীল শক্তি + শালিন্ = শক্তিশালী
'ল' প্রত্যয়ঃ  
কুশ + ল = কুশল শ্যাম + ল = শ্যামল
মাংস + ল = মাংসল শীত + ল = শীতল
'শস্' প্রত্যয়ঃ  
ক্রম + শস্ = ক্রমশ প্রায় + শস্ = প্রায়শ
'য, প্রত্যয়ঃ  
ধন + য = ধন্য অতিথি + য = অতিথ্য
ন্যায় + য = ন্যায্য  
'বৎ' প্রত্যয়  
পিতৃ + বৎ = পিতৃবৎ ভ্রাতৃ + বৎ = ভ্রাতৃবৎ
আত্ম + বৎ = আত্মবৎ বিষ + বৎ = বিষবৎ
জল + বৎ = জলবৎ  

গ. বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে যেসব বিদেশী প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে বিদেশী তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন:

'আনা/আনি' প্রত্যয়ঃ  
বাবু + আনা = বাবুয়ানা মুন্সি + আনা = মুন্সিয়ানা
হিন্দু + আনি = হিন্দু গরিব + আনা = গরিবানা
'দান/দানি' প্রত্যয়ঃ  
বাতি + দান = বাতিদান কলম + দানি = কলমদানি
আনি কন্যা + দান = কন্যাদান নিমক + দান = নিমকদানি
ছাই + দানি = ছাইদানি ফুল + দান = ফুলদান
পিক + দানি = পিকদানি ধূপ + দানি = ধূপদান
'ওয়ান' প্রত্যয়ঃ  
গাড়ি + ওয়ান = গাড়োয়ান দার + ওয়ান = দারোয়ান
কোচ্ + ওয়ান = কোচোয়ান  
'খানা' প্রত্যয়ঃ  
ছাপা + খানা = ছাপাখানা বৈঠক + খানা = বৈঠকখানা
মুদি + খানা = মুদীখানা কার + খানা = কারখানা
ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা পিল + খানা = পিলখানা
'চা/চি' প্রত্যয়ঃ  
বাগ্ + চ = বাগিচা ডেঙ + চি = ডেগচি
মশাল +চি = মশালচি ব্যাঙ + চি = ব্যাঙাচি
'সই' প্রত্যয়ঃ  
মান্ + সই = মানসই জুত + সই = জুতসই
প্রমাণ + সই = প্রমাণসই টেক + সই = টেকসই
চলন + সই = চলনসই মানান + সই = মানানসই
'খোর' প্রত্যয়ঃ  
সুদ + খোর = সুদখোর ঘুষ + খোর =ঘুষখোর
নেশা + খোর = নেশাখোর গাঁজা + খোর = গাঁজাখোর
হারাম + খোর = হারামখোর গুলি + খোর = গুলিখোর
'নবিশ' প্রত্যয়ঃ  
পত্র + নবিশ = পত্রনবিশ শিক্ষা + নবিশ = শিক্ষানবিশ
নকল + নবিশ = নকলনবিশ হিসাব + নবিশ = হিসাবনবিশ
'গিরি' প্রত্যয়ঃ  
বাবু + গিরি = বাবুগিরি পন্ডিত + গিরি = পন্ডিতগিরি
কেরানী + গিরি = কেরানীগিরি মাঝি + গিরি = মাঝিগিরি
দাদা + গিরি = দাদাগিরি সর্দার + গিরি = সর্দারগিরি
নেতা + গিরি = নেতাগিরি হাকিম + গিরি = হাকিমগিরি
'বন্দী' প্রত্যয়ঃ  
জনাব + বন্দী = জবাববন্দী বাক্স + বন্দী = বাক্সবন্দী
'স্তান' প্রত্যয়ঃ  
বেলুচ + স্তান = বেলুচিস্তান তুর্কি + স্তান = তুর্কিস্তান
কুর্দি + স্তান = কুর্দিস্তান পাকি + স্তান = পাকিস্তান
'বাজ/বাজী' প্রত্যয়ঃ  
চাল্ + বাজ = চালবাজ গলা + বাজি = গলাবাজ

■ সমাসের মাধ্যমে শব্দ গঠন

ভাষা ব্যবহার করতে দুই বা অধিক সংখ্যক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত শব্দসমষ্টিকে প্রায় ব্যবহার করতে হয়। এসব শব্দ সমষ্টি সমাস হিসেবে পরিচিত। সুতরাং পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক পদের এক পদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে। সমাসের যে নতুন শব্দ গঠিত হয় তাকে সমাসবদ্ধ শব্দ বলে। যেমন: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, রাজার পুত্র = রাজপুত্র ইত্যাদি।

এখানে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' এবং 'রাজার পুত্র' এই শব্দ সমষ্টি দুটি বদলে 'সিংহাসন' ও 'রাজপুত্র' শব্দ দুটি ব্যবহার করলে ভাষা সংক্ষেপ ও শ্রুতিমধুর হয়।

'সমাস' শব্দের প্রকৃত অর্থ একত্র অবস্থান বা সংক্ষেপণ। সুতরাং বাংলা ভাষায় সমাসের প্রথম ও প্রধান প্রয়োজন বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করা। সেজন্য বাংলা ভাষায় সমাসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ সমাসের সাহায্যে নতুন নতুন শব্দ তৈরী হয়ে ভাষার শ্রীবৃদ্ধি সাধিত হয়। সমাস অল্প কথায় অধিক ব্যঞ্জনা দান করে। সমাস ভাষার শ্রীবৃদ্ধি, সংক্ষেপণ ও শ্রুতিমাধুর্য আনয়ন করে ভাষাকে গতিময়তা দান করে। সুতরাং বাংলা শব্দ গঠনে সমাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

সমাস প্রধানত ছয় প্রকার। যথা: ১. দ্বন্দ্ব সমাস, ২. দ্বিগু সমাস, ৩. কর্মধারয় সমাস, ৪. তৎপুরুষ সমাস, ৫. অব্যয়ীভাব সমাস এবং ৬. বহুব্রীহি সমাস।

সমাসযোগে শব্দ গঠনের উদাহরণঃ

১.দ্বন্দ্ব সমাসের সাহায্যে শব্দ গঠনঃ

ভাল ও মন্দ = ভালমন্দ হাট ও বাজার = হাটবাজার
মাতা ও পিতা = মাতাপিতা ছোট ও বড় = ছোটবড়
গুরু ও শিষ্য = গুরুশিষ্য সোনা ও রুপা = সোনারুপা
ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে
বৃক্ষ ও লতা = বৃক্ষলতা জমা ও খরচ = জমাখরচ
হাতি ও ঘোড়া = হাতিঘোড়া গান ও বাজনা = গানবাজনা

২.দ্বিগু সমাস যোগে শব্দ গঠনঃ

ত্রি (তিন) ভুজের সমাহার = ত্রিভুজ চৌ (চার) রাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা
সাত সমুদ্রের সমাহার = সাতসমুদ্র পঞ্চ নদের সমাহার = পঞ্চনদ
শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী তিন মাথার সমাহার = তেমাথা
সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ  

৩. কর্মধারয় সমাস যোগে শব্দ গঠনঃ

মহান যে ঋষি = মহর্ষি নীল যে উৎপল = নীলোৎপল
পূর্ণ যে চন্দ্র = পূর্ণচন্দ্র রাজা অথচ ঋষি = রাজর্ষি
আগে সুপ্ত পরে উত্থিত = সুপ্তোত্থিত পন্ডিত হয়ে মূর্খ = পন্ডিতমূর্খ
বীর যে পুরুষ = বীরপুরুষ যিনি দেব তিনি ঋষি = দেবর্ষি
মহৎ যে জন = মহাজন কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা
রক্ত যে চন্দন = রক্তচন্দন যে হৃষ্ট সেই পুষ্টি = হৃষ্টপুষ্টি
ঘরে পালিত জামাই = ঘরজামাই শোক রূপ অনল = শোকানল

৪. তৎপুরুষ সমাস যোগে শব্দ গঠনঃ

ছেলেকে ভুলানো = ছেলে ভুলানো পদ দ্বারা দলিত = পদদলিত
ভ্রম হতে অন্ধ = ভ্রমান্ধ পথের রাজা = রাজপথ
পুরুষের উত্তম = পুরুষোত্তম হংসের রাজা = রাজহংস
বিলাত হতে ফিরত = বিলাতফেরত বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল
বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন ধামা ধরে যে = ধামাধরা

৫.অব্যয়ীভাব সমাসের সাহায্যে শব্দ গঠনঃ

কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ বনের সদৃশ্য = উপবন
ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ মিলের অভাব = গরমিল
দিনে দিনে = প্রতিদিন পা হতে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক
ভাতের অভাব = হাভাতে কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ
অক্ষীর সমীপে = প্রত্যক্ষ হায়ার অভাব = বেহায়া

৬. বহুব্রীহি সমাস যোগে শব্দ গঠনঃ

শূল পাণিতে যার = শূলপাণি পীত অম্বর যার = পীতাম্বর
অহংকার নাই যার = নিরহংকারী ঊর্ণ নাভিতে যার =ঊর্ণনাভ
লাঠিতে লাঠিতে যুদ্ধ = লাঠালাঠি মৃগের মত নয়ন যার = মৃগনয়না
নেই তার যার = বেতার সম্মান তীর্থ (গুরু) যার = সতীর্থ
আশীতে বিষ যার = আশীবিষ নদী মাতা যার = নদীমাতৃক
পাপে মতি যার = পাপমতি নেই বোধ যার = অবোধ
জলের সাথে বিদ্যমান = সজল চাঁদের মত মুখ যার = চাঁদমুখ

■ সন্ধির যোগে শব্দ গঠন

অতি নিকটবর্তী দুটি শব্দের পরস্পর মিলনের ফলে একটি নতুন সংমিশ্রনের সৃষ্টি হয়। এ সংমিশ্রনের নাম সন্ধি। সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। অতএব, দুটি বর্ণ পরস্পর অত্যন্ত পরস্পর সন্নিহিত হলে যুগপৎ উচ্চারণের ফলে ধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে সন্ধি বলে।

সন্ধির ফলে পাশাপাশি দুটি ধ্বনির মিলন ঘটে এবং তাতে উচ্চারণ খুব সহজ, শ্রুতিমধুর ও কম সময় সাপেক্ষ হয়। সন্ধির ফলে নতুন নতুন শব্দ তৈরি হয় এবং তাতে ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। সুতরাং বলা যায় ভাষাকে সহজ, সমৃদ্ধ, শ্রুতিমধুর এবং গতিশীল করার জন্য সন্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরীসিম।

তিনভাবে সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠন করা যায়। যথা: ১. স্বরসন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠন, ২. ব্যঞ্জনসন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠন এবং ৩. বিসর্গ সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠন।

১.স্বরসন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনঃ

এক + ঊন = একোন পরি + কার = পরিষ্কার
সম + গম = সংগম নর + অধম = নরাধম
নব + অন্ন = নবান্ন মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
নব + উঢ়া = নবোঢ়া সম + জীবনী = সঞ্জীবনী
উৎ + স্থান = উত্থান হিম + আলয় = হিমালয়
শশ + অঙ্ক = শশাঙ্ক পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ ষট্ + মাস = ষন্মাস
সম + কার = সংস্কার সিংহ + আসন = সিংহাসন
অন্য + অন্য = অন্যান্য নৈ + অক = নায়ক
তথা + এবচ = তথৈবচ শম + কর = শঙ্কর

২. ব্যঞ্জনসন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনঃ

উৎ + হত = উদ্ধত

মহিমা + অন্বিত = মহিমান্বিত

দিক্ + অন্ত = দিগন্তষষ + থ = ষষ্ঠ

রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র

ষট্ + আনন = ষড়ানন

৩. বিসর্গ সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনঃ

গিরি + ইন্দ্র = গিরীন্দ্র উৎ + লেখ = উল্লেখ
জীবৎ + দশা = জীবদ্দশা অধঃ + গতি = অধোগতি
নিঃ + চয় = নিশ্চয় ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী
যতী + ইন্দ্র = যতীন্দ্র চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি
জগৎ + বন্ধু = জগদ্বন্দ আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব
পৃথ্বি + ঈশ = প্রথ্বিশ নর + উত্তম = নরোত্তম
বিপদ + চিন্তা = বিপচ্চিন্তা মৃৎ + ময় = মৃন্ময়
দুঃ + যোগ = দুর্যোগ আশীঃ + বাদ = আর্শীবাদ
নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র ফল + উদয় = ফলোদয়
বিপদ + জনক = বিপজ্জনক উদ + মত্ত = উন্মত্ত
ইতঃ + তত = ইতস্তত অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা চল + ঊর্মি = চলোর্মি
কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা সম + দর্শন = সন্দর্শন
মনঃ + যোগ = মনোযোগ নিঃ + অবধি = নিরবধি
অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা সম + তান = সন্তান