লেকচার-২৩: বাংলা ব্যাকরণ (উপসর্গ)

Category: Bangla
Posted on: Wednesday, September 13, 2017

Share:

'তাপ' (বিশেষ্য পদ) তৎসম পদ । 'তাপ' অর্থ উষ্ণতা বা উত্তাপ । এর পূর্বে 'প্র' বা 'অনু' যুক্ত হয়ে যথাক্রমে প্রতাপ (প্র+তাপ) যার অর্থ পরাক্রান্ত বা বীরত্ব । অনুতাপ (অনু+ তাপ) যার অর্থ অনুশোচনা বা আফসোস ইত্যাদি নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে এবং 'তাপ' শব্দের অর্থের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে । আবার 'প্র' বা 'অনু' এর নিজস্ব কোন অর্থ নেই বা এগুলো স্বাধীনভাবে কোন বাক্যেও ব্যবহৃত হতে পারে না । তাই ভাষাবিদগণ এরূপ অব্যয়সূচক শব্দ বা শব্দাংশের নাম দিয়েছেন উপসর্গ ।

'উপসর্গ' কথাটির মূল অর্থ 'উপসৃষ্ট' । এর কাজ হলো নতুন শব্দ গঠন করা । উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই, তবে এগুলো অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে থাকে । মনে রাখতে উপসর্গ সব সময় মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় । যেমন- 'হার' একটি শব্দ । এর সাথে উপ, আ, প্র, বি উপসর্গ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে উপহার, আহার, প্রহার, বিহার শব্দ গঠিত হয়েছে । এভাবে উপসর্গের সাহায্যে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভার সমৃদ্ধি লাভ করেছে । অতএব, কতকগুলো অব্যয় নামবাচক বা কৃদান্ত শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরির্বতন সাধন করে, এগুলোকে উপসর্গ বলে । ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "সংস্কৃতে কতগুলো অব্যয় শব্দ আছে, এগুলো ধাতুর পূর্বে বসে এবং ধাতুর মূল ক্রিয়ার গতি নির্দেশ করে এর অর্থের প্রসারণ, সঙ্কোচন বা অন্য পরিবর্তন আনয়ন করে দেয় । এরূপ অব্যয় শব্দকে উপসর্গ বলে ।" ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, "যেসব অব্যয় শব্দ কৃদান্ত বা নামপদের পূর্বে বসে শব্দগুলোর অর্থের সংকোচন, সম্প্রসারণ বা অন্য কোন পরিবর্তন সাধন করে, ঐ সব অব্যয় শব্দকে বাংলা ভাষায় উপসর্গ বলে ।" অশোক মুখোপাধ্যায়ের মতে, "বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয় আছে যারা ধাতু বা শব্দের আগে যুক্ত হয়ে তাদের অর্থ বদল করে দেয় । এদেরই বলা হয় উপসর্গ ।"

 উপসর্গের অর্থদ্যোক্তা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গগুলোর কোনে অর্থবাচকতা নেই, শুধু শব্দ বা ধাতুর পূর্বে ব্যবহৃত হয়েই তাদের অর্থদ্যোতকতা শক্তি সৃষ্ট হয়ে থাকে; যেমন; 'পরা' একটি উপসর্গ । এর কোন স্বকীয় অর্থ নেই; কিন্তু 'জয়' শব্দের পূর্বে যুক্ত হলে হয় (পরা + জয়) 'পরাজয়' । এটা জয়ের বিপরীতার্থক শব্দ । সেরূপ- 'হার' কৃদন্ত শব্দটির পূর্বে 'আ', 'বি' এবং 'প্র' ইত্যাদি শব্দ যুক্ত হয়ে অর্থের পরিবর্তন সাধন করে; যেমন- আ + হার = আহার (খাওয়া); বি + হার = বিহার (ভ্রমণ); প্র + হার = প্রহার (মার দেওয়া) ।

সুতরাং বলা যায় যে, উপসর্গসমূহের নিজস্ব কোন অর্থবাচকতা নেই বটে, কিন্তু অন্য শব্দের পূর্বে যুক্ত হলে তাদের অর্থদ্যোতকতা বা সংশ্লিষ্ট শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতা জন্মে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, "উপসর্গ থাকে সামনে, প্রত্যয় পেছনে, নতুন শব্দ তৈরী করার বেলায় তাদের নইলে চলে না ।"

 উপসর্গের বৈশিষ্ট্য

 

শব্দ বা ধাতুর আদিতে যা যোগ হয় তাই উপসর্গ । উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোন অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষমতা থাকে । উপসর্গগুলোর সঙ্গে কোন বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্ত হয় না বলে এদের রূপের কোন পরিবর্তন হয় না । এজন্য বাংলা ব্যকরণে উপসর্গকে অব্যয় বলেও গণ্য করা হয় । উপসর্গের বৈশিষ্ট্য সমূহ নিম্নরূপঃ

১. উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই । ২. এটা নতুন অর্থবেধক শব্দ গঠন করে । ৩. এগুলো স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না । ৪. এগুলো শব্দের অর্থে পূর্ণতা দান করে । ৫. এগুলো নামবাচক বা কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে । ৬. উপসর্গ শব্দের অর্থে সমম্প্রসারণ, পরিবর্তন বা সংকোচন ঘটায় ।

 উপসর্গের প্রকারভেদ

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- ১. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ, ২. দেশী বা বাংলা উপসর্গ এবং ৩. বিদেশী উপসর্গ ।

১. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গঃ যেসব উপসর্গ সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে । সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি- প্র, পরা, অপ, অনু, অব, নির (নিঃ), দুর (দুঃ), অভি, বি, অধি, সু, উৎ, অনি, নি, প্রতি, পরি, অপি, উপ, আ, সম । 'অন্তর' এ অব্যয়টিকে উপসর্গ ধরে কোন কোন বৈয়াকরণ সংস্কৃত উপসর্গ একুশটি বলে থাকেন । ২. দেশী বা বাংলা উপসর্গঃ আর্যদের এদেশে আসারপূর্বে যেসব জাতি বাস করত, তাদের ভাষা থেকে যেসব উপসর্গ এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোকে দেশী বা বাংলা উপসর্গ বলে ।দেশী বা বাংলা উপসর্গ একুশটি- অ, আ, অঘা, অনা, অজ, আন, আব, আড়, ইতি, ঊন (উন), কু, কদ, নি, পাত (পাতি), বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা । ৩. বিদেশী উপসর্গঃ বিদেশীদের সাথে ভাবের আদান-প্রদানের ফলে বিদেশী ভাষা থেকে এসেছে যে সব উপসর্গ বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়ে গেছে, তাদের বিদেশী উপসর্গ বলে । এখানে কয়েকটি বহুল প্রচলিত বিদেশী উপসর্গ দেওয়া হলঃ ক. আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, বাজে, লা । খ. ফারসি উপসর্গঃ কম, কার, দর, গর, নিম, ফি, ব, বদ, বর, বে, সে । গ. ইংরেজি উপসর্গঃ ফুল, হাফ, হেড, সাব । ঘ. হিন্দী উপসর্গঃ হর । বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ নি, বি, সু-এ তিনটি উপসর্গ সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যেও রয়েছে, আবার দেশী উপসর্গের মধ্যেও রয়েছে । কখন এরা সংস্কৃত এবং কখন এরা দেশী কিভাবে বুঝবে? স্মরণ রাখতে হবে যে, সংস্কৃত উপসর্গ শুধু সংস্কৃত শব্দের পূর্বে এবং দেশী উপসর্গ শুধু দেশী শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় । নি, বি, সু- এ উপসর্গ তিনটি যখন সংস্কৃত শব্দের পূর্বে যুক্ত হয় তখন তাদেরকে সংস্কৃত উপসর্গ বলে ধরতে হবে এবং এবং এরা যখন দেশী উপসর্গের পূর্বে যুক্ত হয় তখন এদেরকে দেশী উপসর্গ বলে ধরতে হবে । বিভিন্ন প্রয়োগে তারা বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে । এই প্রয়োগ এবং অর্থ থেকেই তাদের পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব ।

নিচে উদাহরণসহ উপসর্গগুলোর প্রয়োগ অর্থসহ দেওয়া হলঃ

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ

যে উপসর্গ সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেসব উপসর্গকে সংস্কৃত উপসর্গ বলে ।সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গের সংখ্যা বিশটি- প্র, পরা, অপ, অনু, অব, নির (নিঃ), দুর (দুঃ), অভি, বি, অধি, সু, উৎ, অতি, নি, প্রতি, পরি, অপি, উপ, আ, সম ।

উপসর্গ অর্থদ্যোতকতা উদাহরণ
প্র- ক. খ্যাতি প্রকীর্তি, প্রশংসা, প্রখ্যাত, প্রসিদ্ধ ।
  খ. প্রকৃষ্টতা প্রভাব, প্রকাশ, প্রজ্ঞা, প্রচলন ।
  গ. পশ্চাদগামিতা প্রশাখা, প্রশিষ্ট, প্রপৌত্র ।
  ঘ. গতি প্রস্থান, প্ররবশ, প্রচার ।
  ঙ. নিরবচ্ছিন্নতা প্রবৃত্তি, প্রবাহ, প্রচ্ছন্ন ।
অনুরূপ- প্রস্ফুটিত, প্রসার, প্রকোপ, প্রবল, প্রণাম, প্রয়োগ, প্রভাব, প্রতাপ, প্রভূত, প্রখর, প্রসাদ, প্রচণ্ড, প্রলয়, প্রকট, প্রগলভ, প্রদাহ, প্রকর্ষ, প্রস্তাব, প্রচ্ছদ, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, প্রণয়, প্রণয়ন, প্রক্ষেপ, প্রমাদ, প্রণতি, প্রতুল, প্রতারক, প্রতারণা, প্রণোদিত, প্রণেতা, প্রাণপাত ইত্যাদি ।
পরা- ক. অত্যন্ত পরাকাষ্ঠা, পরায়ন ।
  খ. প্রধান্য পরাক্রান্ত, পরাক্রম ।
  গ. প্রতিকূল পরাজয়, পরাভব, পরাহত ।
অনুরূপ- পরাজিত, পরাভব, পরাবর্তিত, পরাধীন, পরাঙ্মুখ, পরাগ, পরামর্শ, পরাস্ত, পরাকৃত, পরাগত, পরাবৃন্ত ইত্যাদি ।
অপ- ক. খারাপ অপকর্ম, অপকীর্তি, অপব্যয় ।
  খ. বৈপরীতা অপবাদ, অপমান, অপপ্রচার ।
  গ. বিকৃতি অপপাঠ, অপভ্রংশ ।
অনুরূপ- অপচয়, অপনোদন, অপপ্রয়োগ, অপযশ, অপহরণ, অপকার, অপমৃত্যু, অপকর্ষ, অপরাধ, অপঘাত, অপগত, অপসৃত, অপরূপ, অপদেবতা, অপভ্রষ্ট, অপশ্রুতি, অপকারী, অপচিতি, অপনয়ন, অপনীত, অপবর্গ ইত্যাদি ।
অনু- ক. পশ্চাৎ অনুকরণ, অনুসরণ, অনুচর ।
  খ. সহিত অনুকূল, অনুকম্পা ।
  গ. তুল্য অনূরুপ, অনুবিশ্ব, অনুশিষ্য ।
  ঘ. পৌনপুন্য অনূদিত, অনুক্ষণ, অনুশীলনী ।
অনুরূপ- অনুক, অনুতাপ, অনুমান, অনুপ, অরুশোচনা, অনুমোদন, অনুলিপি, অনুবর্তন, অন্বেষণ, অনুসার, অনুরাগ, অনুকার, অনুরোধ, অনুগ্রহ, অনুবাদ, অনুসর্গ, অনুসারী, অনুসন্ধিৎসু, অনুসন্ধানী, অনুসন্ধান,
অনুষ্টুপ, অনুলেপন, অনুষঙ্গ, অনুরোধ ইত্যাদি ।  
অব- ক. সর্বতোভাবে অবগাহন, অবরোধ, অবগত ।
  খ. নিম্নতা অবতরণ, অবনত, অবলুণ্ঠন ।
  গ. অনাদর অবহেলা, অবমাননা, অবজ্ঞা ।
  ঘ. ন্যূনতা অবশিষ্ট, অবসান ।
অনুরূপ- অবসৃত, অবসিত, অবসান, অবস্থা, অবস্থান, অবসাদ, অবসর, অবসন্ন, অবহেলিত, অরহিত, অবস্থিতি, অবান্তর, অবস্থিত, অবচেতন, অবরোহণ, অবগুণ্ঠন, অবতার, অবদান, অবনত ইত্যাদি ।
নির্ (নি) ক. নিশ্চয় নির্ণয়, নির্ধারণ, নির্ভর ।
  খ. অভাব নিরাকার, রনরন্ন, নির্জীব ।
  গ. অতিশষ্য নিরীক্ষণ, নিরঙ্কুশ, নিরতিশয় ।
  ঘ. নিসরণ নির্বাসন, নিভৃত ।
অনুরূপ- নির্মূল, নির্মেঘ, নির্মোক, নির্মোচন, নির্মোহ, নির্যাতন, নির্যাস, নির্লজ্জ, নির্লিপ্ত, নির্লোভ, নির্মাণ, নির্মল, নির্মাল্য, নির্মিত, নির্মীয়মাণ, নির্ভয়, নির্বোধ, নির্বেদ, নিরপরাধ, নিরুপায়, নিরুদ্যাম, নিরুদ্দিষ্ট,
নিরুদবিগ্ন, নিরুত্তর, নিরীক্ষমাণ, নিরীক্ষক, নিরক্ষ, নিরস্ত ইত্যাদি ।
দুর্ (দু)- ক. দুষ্ট দুরাচার, দুশ্চরিত্র, দুর্বিনীত ।
  খ. কষ্ট দুর্গম, দুর্বার, দুসাধ্য ।
  গ. মন্দ দুর্নাম, দুরদৃষ্ট, দুসময় ।
  ঘ. অভাব দুর্ভাগ্য, দুর্ভিক্ষ, দুর্বল ।
অনুরূপ- দুর্বহ, দুর্বিপাক, দুর্বিষহ, দুর্ভাবনা, দুর্ভেদ্য, দুর্ভোগ, দুর্গতি, দুর্মদ, দুর্মর, দুর্মুখ, দুর্নীতি, দুর্নিরীক্ষ্য, দুর্নিবার, দুর্ধর্ষ, দুর্দিন, দুর্দান্ত, দুর্গা, দুর্জ্ঞেয়, দুর্গম, দুরারোহ, দুরাশা, দুরূহ, দুরাকাঙ্কা, দুরাচার ইত্যাদি।
অভি- ক. সম্যক অভিভূক, অভিব্যক্তি ।  
  খ. গমন অভিসার, অভিযান ।
  গ. সম্মুখ অভিমুখ, অভিবাদন, অবিনন্দন ।
  ঘ. উপকর্ষ অভিরাম, অবিজাত ।
অনুরূপ- অভিঘাত, অভিচার, অভিজাত, অভিজ্ঞ, অভিজ্ঞান, অভিধা, অভিধান, অবিনন্দন, অভিনয়, অভিনিবিষ্ট, অভিনিবেশ, অভিনীত, অভিনেতা, অবিনেত্রী, অভিনেয়, অভিপ্রেত, অভিপ্রায়, অভিব্যক্ত, অভিনব,
অভিভাবক, অভিভাষণ ইত্যাদি ।  
বি- ক. বিশেষ বিজ্ঞান, বিকাশ, বিশুদ্ধ ।
  খ. বিহীন বিস্বাদ, বিমল, বিফল ।
  গ. অবাস্থান্তর বিকার, বিপর্যয়, বিকৃত ।
  ঘ. নিন্দিত বিরাগ, বিবর্ণ, বিরূপ ।
  ঙ. গতি বিচরণ, বিদায়, বিহার ।
অনুরূপ- বিজয়, বিচার, বিরোধ, বিবাদ, বিষাদ, বিক্রয়, বিসর্জন, বিয়োগ, বিজন, বিনয়, বিষম, বিস্মৃত, বিখ্যাত, বিতৃষ্ণা ইত্যাদি।
অধি- ক. উপরি অধিবাস, অধিষ্ঠান ।  
  খ. অতিশয় অধিনায়ক, অধিভূত, অধিকার ।
অনুরূপ- অধিবেশন, অধিবাসী, অধিপতি, অধিগত, অধিকর্তা, অধিকর্ম, অধিবর্ষ, অধিহার, অধিগম্য, অধিভুক্ত, অধিকৃত ইত্যাদি ।
সু- ক. উৎকর্ষ সুকণ্ঠ, সুকৌশল, সুনিয়ম ।
  খ. অতিসয় সুখ্যাতি, সুযশ, সুকঠিন ।
  গ. সহজ সুলভ, সুগম, সুসাধ্য ।
অনুরূপ- সুকর, সুচিন্তিত, সুত, সুতরাং, সুধা, সুপাচ্য, সুর, সুরম্য, সুরাহা, সুশৃঙ্খল, সুশ্রাব্য, সুষম, সুষ্ঠু, সুসাধ, সুস্থ, সুস্থির, সুহৃত, সুভাষিত, সুচিন্তি, সুদর্শন, সুন্দর, সুনাম, সুকুমার, সুজলা, সুদিন, সুশ্রী, সুকৃতি,
সুলভ, সুদূর, সুনীতি ইত্যাদি ।  
উৎ- ক. নির্মাণ উৎপাদন, উৎপাদিত, উৎপন্ন ।
  খ. প্রাবল্য উদ্দীপনা, উত্তেজনা, উত্তপ্ত ।
  গ. ঊর্ধ্ব উদগম, উৎপাটন, উত্তোলন ।
  ঘ. বিকাশ উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎকৃষ্ট ।
  ঙ. বিরুদ্ধ উচ্ছৃঙ্খল, উৎসন্ন ।
অনুরূপ- উৎসর্গ, উৎকর্ণ, উৎপত্তি, উৎসাহ, উৎকর্ষ, উৎকোচ,উৎক্ষেপণ, উৎর্কীণ, উৎসারণ, উৎখাত, উৎক্ষেপ, উৎপল ইত্যাদি ।
অতি- ক. অতিশয়অত্যুচ্চ, অতিবৃষ্টি, অতিশায়ন ।  
  খ. অনুচিত অতিদর্প, অত্যাচার ।
অনুরূপ- অতিকায়, অতিশয়, অতিক্রম, অতিবুদ্ধি, অতিপ্রাকৃত, অতিমানব, অতিরঞ্জন, অতিরিক্ত, অত্যন্ত, অত্যধিক, অতীব, অত্যাবশ্যক ইত্যাদি ।
নি- ক. অভাব নিবাত, নিশ্ছিদ্র, নিদাঘ ।  
  খ. নিষেধ নির্মিলন, নিবৃত্তি, নিষিদ্ধ ।
  গ. নিশ্চয় নিবারণ, নিষিক্ত, নির্ণয় ।
অনুরূপ- নিগ্রহ, নিকৃষ্ট, নিবাস, নির্গম, নিশ্চল, নিরোধ, নিকট, নিমজ্জন, নিরাময়, নিদর্শন, নিপাত, নিশ্চয় ইত্যাদি ।
প্রতি- ক. বীপ্সা প্রতিঘর, প্রতিজন, প্রতিগ্রাম ।  
  খ. সাদৃশ্য প্রতিরূপ, প্রতিবিম্ব, প্রতিশব্দ ।
  গ. বিরোধ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রতিদ্বন্দ্বী ।
  ঘ. প্রত্যপর্ণ প্রত্যুপকার, প্রত্যপর্ণ, প্রতিঘাত ।
অনুরূপ- প্রতিকার, প্রতিকৃত, প্রতিঘাত, প্রতিচিত্র, প্রতিজ্ঞা, প্রতিপত্তি, প্রতিপদ, প্রতিপন্ন, প্রতিপাদন, প্রতিপাদ্য, প্রতিপালক, প্রতিফল, প্রতিফলন, প্রতিবন্ধ, প্রতিরোধক, প্রতিশোধ, প্রতিশ্রুত, প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি ।
পরি ক. শেষ পরিশেষ, পরিসীমা ।  
  খ. চরতুর্দিক পরিভ্রমণ, পরিক্রমা, পরিমণ্ডল ।
  গ. অতিশয় পরিপূর্ণ, পরিম্লাণ, পরিপক্ব ।
  ঘ. সমাক পরীক্ষা, পরিশ্রান্ত, পরিশ্রম ।
অনুরূপ- পরিতাপ. পরিপন্থি, পরিষ্কার, পরিত্যাগ, পরিহার, পরিণয়, পরিণাম, পরিধান, পরিহাস, পরিণত, পরিচয়, পরিপাক, পরিবর্তন, পরিচালক, পরিচালনা, পরিচ্ছদ, পরিচ্ছে, পরিচর্যা ইত্যাদি ।
অপি- ক. যদিও যদ্যপি অপিচ, অপিনিহিতি, অপিধান, অপিনিধন ।
উপ- ক. বিশেষ উপস্থাপন, উপভোগ ।
  খ. অপ্রধান উপনদী, উপকথা, উপগ্রহ ।
  গ. সামীপ্য উপকূল, উপকণ্ঠ ।
  ঘ. নিন্দিত উপপত্নী, উপদেবতা, উপজীবী ।
অনুরূপ- উপহার, উপকার, উপবাস, উপবন, উপায়, উপাসনা, উপস্থিত, উপবেশন, উপক্রম, উপসাগর, উপত্যকা, উপজাত, উপদ্রব, উপনগর, উপনিবেশ, উপদেশ, উপনিষদ ইত্যাদি ।
আ- ক. পর্যন্ত আকন্ঠ, আকর্ণ, আজীবন ।
  খ. প্রতি বা দিকে আগমন, আক্রমণ ।
  গ. ঈষৎ আরক্তিম, আকুঞ্চন ।
অনুরূপ- আহার, আহরণ, আচরণ, আস্ফালন, আচ্ছাদন, আরক্ত, আজন্ম আশ্লেষ, আবেশ, আদেশ, আরম্ভ, আদান, আদর্শ, আবাস, আবাহন, আকুল, ইত্যাদি ।
সম- ক. সমূহ সমগ্র, সমস্ত ।
  খ. প্রচার সমৃদ্ধ, সম্পূর্ণ, সমধিক ।
  গ. অভিমুখ সম্মুখ, সমক্ষ ।
অনুরূপ- সম্ভাষণ, সম্মান, সম্ভার, সম্মিলন, সম্পত্তি, সম্পাদন, সমাবর্তন, সমাহার, সম্পদ, সম্ভোগ ইত্যাদি ।

 সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

১. প্রখ্যাত বাগ্মী হিসেবে তিরন সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন । ২. সামান্য ভুলের কারণে শত্রুদের পরাজয় সুদূর পরাহত হয়ে পড়ে । ৩. যতেই অপবাদ দাও আর অপমান কর, সে কিছুতেই অপকর্মতেকে বিরত হবে না । ৪. শের শাহ অনুচরবৃন্দসহ শত্রুকে অনুসরণ করলেন এবং অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় রইল ৫. অনুরূপভাবে অনুশীলন না করলে তিনি নিশ্চয়ই বিফল হতেন । ৬. সমস্ত অবহেলাঅবজ্ঞা উপেক্ষা করে অবনত মস্তকে তিনি বিদায় হলেন ।

৭. দুর্বলেরাই দুরাচার-দুশ্চরিত্র রোকদের সহজ শিকারে পরিণত হয় । ৮. অভিযানে বেরিয়ে কলম্বাস সাগরের বিশালত্ব দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন । ৯. তুমি বিজ্ঞানের বিকৃত অর্থ খুঁজতে যেও না, তাতে বিপর্যয় বাড়বে । ১০. অদিকার একমাত্র অধিনায়কদেরই একচেটিয়ে সম্পত্তি নয় । ১১. সুযশ, সুখ্যাতি কখনও সুসাধ্য নয় । ১২. উৎকৃষ্ট শস্য উৎপন্ন হলে কৃষককুল কখনও উৎসন্নে যাবে না । ১৩. অত্যুচ্চ পাহাড়ী জমিতে অতিবৃষ্টির কারণে শস্যহানি ঘটে না । ১৪. প্রহরীদের নিশ্ছিদ্র প্রহর ভেদ করেও শহরে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ঢুকে পড়েছে । ১৫. প্রতিগ্রামে, প্রতিঘরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ও ঠেছে । ১৬. পরিশ্রম করে যারা রেখাপড়া করে তারাই পরীক্ষায় সফল হয় । ১৭. স্বাস্থ্য রক্ষার্থে তিনি নিয়মিত শরীর চর্চা করেন, অপিচ সুষম খাদ্য খান । ১৮. উপগ্রহের মাধ্যমে ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে উপকূল এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে । ১৯. আকর্ণ হাসি হেসে তিনি যেভাবে আমার কক্ষে আগমন করলেন তা আমার আজীবন মনে থাকবে । ২০. সমগ্র বিশ্ব যেখানে সম্মুখে এগিয়ে চলছে আমাদের তখন পিছিয়ে থাকার কোন অর্থ হয়না

দেশী বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ

এদেশে আর্যরা আগমনের পূর্বে যে সব জাতি বাস করত, তাদের নিজস্ব ভাষা থেকে যে সব উপসর্গ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর নামই দেশী বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ ।খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা মোট একুশটি । যেমন- অ, আ, অঘা, অনা, অজ, আন, আব, আড়, ইতি, ঊন (উন), কু, কদ, নি, পাত (পাতি), বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা ।

উপসর্গ অর্থদ্যোতকতা উদাহরণ
অ- ক. অভাব অমিল, অখুশি, অজানা ।
  খ. নিরর্থক অকুমারী, অঢেল, অরঙ্গা ।
  গ. নিন্দিত অকাজ, অকেজো, অপয়া ।
  ঘ. অবিশ্রান্ত অঘোর, অঝোর ।
অনুরূপ- অফুরন্ত, অদেখা, অসুবিধা, অযাত্রা, অবশ, অবিবেকী, অপাত্র, অযথা, অনড়, অস্থি, অবেলা, অচেনা, অপয়া, অজানা, অমর, অকাজ, অবলা ইত্যাদি ।
আ- ক. অভাব আঁকাড়া, আধোয়া, আলোনা ।
  খ. মন্দ আকাটা, আগাছ ।
  গ. বিশিষ্ট আকাল (দুর্ভিক্ষ) ।
অনুরূপ- আদেখা, আবাঙা, আভাজা, আপাকা, আকাটা, আসিদ্ধ, আকাট, আঘাট, আদায়, আবাটা, আবুদ্ধিয়া, আবেলা, আকাল ইত্যাদি ।
অঘা- ক. বোকা বা অপদার্থ আচণ্ডী, অঘারাম, অঘামার্কা, অঘাকান্ত ।
অনা- ক. অভাব অনাবৃষ্টি, অনাবাদ, অনাদার ।
  খ. বর্হিভূত অনাচার, অনাসৃষ্টি ।
  গ. অশুভ অনামুখী, অনামুখো ।
অনুরূপ- অনাদর, অনাহা ইত্যাদি ।    
অজ- ক. খাঁটি অজমূর্খ, অজপাড়াগাঁ ।
  খ. সম্পূর্ণ অজপুকুর, অজডাঙ্গা ।
আন- ক. নাস্তি আনকোরা, আনসেলাই ।
  খ. ব্যাকুল আনচান, আনমনা ।
আব- ক. অস্পষ্টতা আবডাল, আবছায়া ।
আড়- ক. বক্র আড়চোখ, আড়নয়ন ।
  খ. অর্ধ আড়ক্ষেপা, আড়পাগলা ।
  গ. বিশিষ্ট আড়বুঝ, আড়মোড়া ।
অনুরূপ- আড়দৃষ্টি, আড়চাহনি, আড়ভাঙা, আড়কোলা, আড়গড়া, আড়কাঠি ইত্যাদি ।
ইতি- ক. ইহা ইতিকর্তব্য, ইতিকর্ম ।
  খ. বিশিষ্ট ইতিহাস, ইতিকথা ।
ঊন (উন)- নূন্য উনপাজুরে, ঊনবর্ষা, উনভাতা ।  
কু- কুৎসিত কুমতলব, কুপ্রথা, কুকাজ ।
কদ- নিন্দিত কদর্থ, কদর্য, কদবেল ।
নি- নাস্তি নিলাজ, নিখোঁজ, নিখুঁত ।
অনুরূপ- নিটোল, নিখরচা, নিখাদ, নির্জলা, নির্ভেজাল, নিভরসা, নিভাঁজ ইত্যাদি ।
পাত(পাতি)- ক্ষুদ্র পাতকুয়ো, পাতিনেবু, পাতিহাঁস ।
বি- ক. নিন্দা বিরূপ, বিজন্মা ।
  খ. নাস্তি বিভূঁই, বিকল ।
ভর- পরিপূর্ণ ভরপেট, ভরদুপুর, ভরদিন, ভরসাঁজ, ভর ।
রাম- ক. উৎকৃষ্ট রামকলা, রামঘড়ি ।
  খ. বড় রামচাগল, রামদা ।
স- ক. স্বার্থে সক্ষম, সঠিক ।
  খ. সহিত সজোর, সকাল ।
অনুরূপ- সম্রাট, সখেদ, সজল, সটান, সকাতর, সক্ষম, সচিত্র, সচল ইত্যাদি ।
সা- উৎকর্ষ সা-জোয়ান, সা-মরিচ ।
সু- শুভ সুসময়, সুনজর, সুখবর ।
হা- অভাব হাভাতে, হাঘর, হাহুতাশ ।

 দেশী বা খাঁটি বাংলা উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

১. অকাজে অঢেল সময় ব্যয় করলাম, আসল কাজের কথা অজানাই রয়ে গেলে ।

২. আকালের চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া ।

৩. অঘামার্কা ছেলেটা সবকিছু মাটি করে দেবে দেখছি ।

৪. অনাবৃষ্টির কারণে দেশের বহু জসমই এবার অনাবাদী রয়ে গেছে ।

৫. অমন অজপাড়াগাঁয়ে তুমি বাড়ি করতে গেলে কেন বাপু!

৬. আনকোরা নতুন জামাটা হারিয়ে ছেলেটা কেমন আনমনা হয়ে গেছে ।

৭. 'আবডালে লুকিয়ে লাভ নেই, বাবা তোকে ঠিকই দেখেছেন দীপু' ।

৮. আড়চোখে যতই তাকাও সত্যি কথাটা আড়ক্ষেপা হয়ত বলেই দেবে ।

৯. ইতিহাসে সকল জাতির ইতিকর্ম সংরক্ষিত থাকবে ।

১০. ঊনবর্ষায় দুনা শীত ।

১১. কোন কুমতলব থেকে থাকলে আগেই কেটে পড় বলছি ।

১২. কদর্য স্বভাবের লোকেরা ভাল কথারও কদর্থ খুঁজে বের করে ।

১৩. নিখুঁত কাজের শিল্পী এখন নিখোঁজ ।

১৪. পাতকুয়ার ব্যবহার আর নেই বরলেই চলে ।

১৫. 'বিভূঁই বিদেশে এসে ইঞ্জিনটা বিকল হয়ে পড়ল, এখন উপায় কি হবে তাই ভাবছি' ।

১৬. একবার ভরপেট খেতে পেলেই ভরদিন কাটিয়ে দিতে পারবে ছেলেটা ।

১৭. রামদা নিয়ে পথে বের হওয়া রীতিমত অপরাধ ।

১৮. সকালে উঠেই এমন সজোরে চিৎকার করছ কেন?

১৯. সা-জোয়ান ছেলেটা গ্রামের সকলেরই চখের মণি ।

২০. সুসময়ে সুখবরটা দিয়েছ বলেই তুমি সাহেবের সুনজরে পড়েছ ।

২১. হাভাতের মত হাহুতাশ না করে কাজে নেমে পড় বাপু ।

বিদেশী উপসর্গ

 

রাজনৈতিক, শাসনতান্ত্রিক কারণে বিদেশীদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বাংলা ভাষাভাষীদের ভাবের আদান-প্রদান করতে হয়েছে । এর ফলে বিদেশী ভাষা থেকে অনেক উপসর্গ এসে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে । এসব উপসর্গই বিদেশী উপসর্গ বলে পরিচিত । নিচে বহুল প্রচলিত কতিপয় বিদেশী উপসর্গ ও তাদের ব্যবহার দেয়া হলোঃ

ক. আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, বাজে, লা ।

খ. ফারসি উপসর্গঃ কম, কার, দর, গর, নিম, ফি, ব, বদ, বর, বে, সে ।

গ. ইংরেজি উপসর্গঃ ফুল, হাফ, হেড, সাব ।

ঘ. হিন্দি উপসর্গঃ হর ।

 

ক. আরবি উপসর্গের ব্যবহারঃ

 

উপসর্গ অর্থদ্যোতকতা উদাহরণ

আম-

সাধারণ: আমমোক্তার, আমদরবার ।

খাস-

নিজস্ব: খাসকামরা, খাসমহল, খাসদরবার ।

বাজে-

ক. বর্হিভূত: বাজে আয়, বাজে খরচ ।

খ. তুচ্ছ: বাজে কাজ, বাজে, কথা ।

গ. বিবিধ: বাজে জমা, বাজে আয়, বাজে খরচ ।

লা-

নেই: লাজবাব, লাপাতত্তা, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ ।

খ. ফারসি উপসর্গের ব্যবহারঃ

 

কম-

স্বল্প: কমবখত, কমজোর, কমআক্কেল ।

কার-

কার্য: কারখানা, কারবার, কারসাজি, কারচুপি ।

দর-

মধ্যস্থ: দরখাস্ত, দরপাকা, দরকাঁচা, দরপত্তনি ।

গর-

অভাব: গরহাজির, গররাজি, গরমিল ।

নিম-

অর্ধ: নিমরাজি, নিমখাসী ।

ফি-

প্রতি: ফিরোজ, ফি-বছর, ফি-সন ।

ব-

সহিত: বমাল, বনাম, বকলম ।

বদ-

নিন্দিত: বদহজম, বদনাম, বদমেজাজী ।

বর-

উপরে: বরখাস্ত, বরাদ্দ, বরবাদ ।

বে-

নঞর্থে: বেনামি, বেরসিক, বেকার, বেকসুর, বেয়াদব, বেকায়দা, বেহায়া

সে-

তিন: সেতার, সে-পায় ।

গ. ইংরেজি উপসর্গের ব্যবহারঃ

ফুল-

পুরো: ফুলপ্যান্ট, ফুলহাতা, ফুলমোজা, ফুলশার্ট ।

হাফ-

আধা: হাফপ্যান্ট, হাফহাতা, হাফমোজা, হাফটিকিট ।

হেড-

প্রধান: হেডমাস্টার, হেডঅফিস, হেডমৌলবী ।

সাব-

অধীন: সাবডেপুটি, সাব-অফিস, সাব-জজ ।

ঘ. হিন্দি উপসর্গের ব্যবহারঃ

 

হর-

প্রত্যেক: হরদম, হরহামেশা, হররোজ ।

 বিদেশী উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

আরবি উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

 

১. তোমাদের মত আমমোক্তার দিয়ে এ মামলা চালান যাবে না ।

২. সাহেবের খাসকামরায় গিয়ে দেখা করবে ।

৩. যার বাজে আয় নেই, সে বাজে খরচ করবে কোথেকে?

৪. ছেলেটির কথা শুনে আমি লাজবাব হয়ে গেলাম ।

ফারসি উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

১. দিলে কমজোর যাদের তারা কখনও বড় কাজ করতে পারে না ।

২. কারখানা বন্ধ রয়েছে মালিকের বড় ছেলের কারসাজিতে ।

৩. খুঁটিনাটি কারণে দরখাস্ত না করাটাই সমীচীন ।

৪. অফিসে প্রতিদিন গরহাজির থাকলে ক্যাশ তো গরমিল দেখা দেবেই ।

৫. মাতুব্বর সাহেব সকলের অনুরোধে শেষে নিমরাজি হয়েছেন ।

৬. ফি-বছর অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টির শিকার হয়ে কৃষকেরা দিশাহারা ।

৭. চোরটি শেষ পর্যন্ত বমাল ধরা পড়েছে ।

৮. চেয়ারম্যান সাহেব খুবই বদমেজামী, বদনাম শুনতে আদৌ তিনি অভ্যস্ত নন ।

৯. তাকে যদি সাহেব বরখাস্ত করেন তবে আমাদের সব পরিকল্পনা বরবাদ হয়ে যাবে ।

১০. বে-আক্কেল লোকটা বে-কসুর খালাস পেয়ে যাবে বলে মনে হয় না ।

১১. অন্ধ চেলেটি চমৎকার সেতার বাজায় ।

ইংরেজি উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

১. ফুলশার্ট বলতে ফুলহাতার জামা বোঝায় ।

২. পুলিশদের আজকাল আর হাফপ্যান্ট ব্যবহার করতে দেখা যায় না ।

৩. স্কুল কামাইয়ের জন্য সেদিন হেডমাস্টার সাহেব হেডমৌলভীকে একচোট ধমকে দিলেন ।

৪. প্রতিটি থানাতেই ব্র্যাকের সাব-অফিস রয়েছে ।

হিন্দি উপসর্গের বাক্যে প্রয়োগ

 

১. হরদম, হররোজ কাজ চালিয়ে যাও, আমি তোমাদের পেছনে আছি ।

 উপসর্গের স্থানীয় অব্যয় বা গতি

এমন কতকগুলো অব্যয় রয়েছে যেগুলোর উপসর্গের ন্যায় ধাতুর পূর্বে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ স্থানীয় অব্যয় বা গতি । যেমন-

অন্তঃ (মধ্যে): অন্তগর্ত, অন্তস্থ, অন্তঃপুর, অন্তঃসলিলা, অন্তঃকরণ, অন্তঃসার, অন্তবঙ্গ, অন্তভুর্ক্ত, অন্তভূর্ত, অন্তর্জলী ।

আবিঃ (বাহিরে): আবিষ্কার, আর্বিভাব ।

তিরঃ (বাঁক): তিরোহিত, তিরোধান, তিরষ্কার, তিরোভাব ।

পুরঃ (সামনে): পুরোহিত, পুরষ্কার, পুরোবর্তী, পুরোভাব, পুরোগমন, পুরোধা ।

বহিঃ (বাইরে): বহির্বাটি, বহির্জগৎ, বহিষ্কার, বহির্বাস ।

সাক্ষাৎঃ (প্রত্যক্ষ): সাক্ষাৎকার ।

প্রাদুঃ (দৃষ্টিগোচর): প্রাদুর্ভাব ।

অলমঃ (সম্যকরূপে): অলঙ্কার ।

 

 উপসর্গ ও অনুসর্গের পার্থক্য

উপসর্গ ও অনুসর্গের মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলঃ

উপসর্গ অনুসর্গ
১. উপসর্গ বিভক্তির মত ব্যবহার হয় না । ১. অনুসর্গ বিভক্তির মত ব্যবহৃত হয় ।
২. উপসর্গ এমন অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না । ২. অনুসর্গ এমন অব্যয়সূচক শব্দাংশ যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে ।
৩. উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই । ৩. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে ।
৪. প্র, পরা, অপ, অনা, নি, অব ইত্যাদি হলো উপসর্গ । ৪. নিকট, দিয়ে, দ্বারা, থেকে, কর্তৃক, হতে ইত্যাদি হল অনুসর্গ ।
৫. উপসর্গ অন্য শব্দের পূর্বে বসে শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ, পরিবর্তন, পূর্ণতা, সংকোচন, এমন কি নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করতে পারে । ৫. অনুসর্গ কখনো কখনো বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে, আবার কখনো বা শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যর মধ্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে ।