Share:

  • মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটাতে সাহায্য করে যা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয় উপাদান। মূল্যবোধের এ দুটো উপাদানের অনুপস্থিতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
  • আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি উপাদান। আইনের শাসন ছাড়া আবার সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। মূল্যবোধের শিক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
  • মূল্যবোধের শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ জীবনকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়।
  • মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করতে সাহায্যে করে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুশাসন কাল্পনিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
  • কর্তব্যবোধের শিক্ষা অর্জন করা যায় মূল্যবোধের শিক্ষা ছাড়া সুশাসন অতি দুরূহ ব্যাপার।
  • সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখীতা উভয়েই মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপাদান।
  • জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা একই সাথে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য মূল্যবোধের আবশ্যকীয় উপাদান।
  • সুতরাং একথা বলা যেতে পারে যে, মূল্যবোধের শিক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ অর্জন ও বিকাশে সহায়তা করে এবং সুশাসনের অনুপস্থিতিতে মূল্যবোধের শিক্ষা প্রধান করা অত্যন্ত দুরূহ ও কঠিন ব্যাপার। তাই, মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের প্রতিষ্ঠার সম্পর্ক ও অত্যন্ত গভীর ও দ্বিপাক্ষিক। একটি ছাড়া অন্যটিকে কল্পনা করা যায় না।

মূল্যবোধের শিক্ষা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা :

মূল্যবোধের শিক্ষা ধারণাটি সাধারণত শিক্ষা এবং কার্যক্রমের সুবিস্তৃত বিস্তারকে বোঝায়। শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক পরিচ্ছন্নতা সমাজে প্রচলিত আদব কায়দা ও আচরণ, সঠিক সামাজিক আচরণ, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য নান্দনিকতা, ধর্মীয় প্রশিক্ষণও এ শিক্ষার অর্ন্তগত। সহজ কথায় মূল্যবোধের শিক্ষা হলও অভ্যাস ও আচরণের সঠিক উন্নতি, এটা হল সামাজিক রীতিনীতির ব্যাখ্যা যা মানুষ নৈতিকভাবে মানতে বাধ্য থাকে। এগুলো না মানলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। মূল্যবোধের চর্চা সমাজের একই ধরনের মূল্যবোধ চর্চাকারী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। মূল্যবোধ ও মূল্যবোধের শিক্ষা স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্ন হয়। শান্তি প্রদান করা যায় না। চিন্তা তাকে সামাজিকভাবে একা করে রাখা হয়।

মূল্যবোধের শিক্ষা হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে লোকজন অন্যকে মূল্যবোধ প্রদান করে। মূল্যবোধের শিক্ষা স্কুলের মত বাড়ি, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠাগার এবং স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনেও হতে পারে। মূল্যবোধ শিক্ষক থেকে ছাত্রের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। মূল্যবোধের শিক্ষা চরিত্র, নৈতিক উন্নতি, ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মিক উন্নতি, নাগরিকত্বের শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি প্রভৃতি বিসয়ের উপর নির্ভর করে।

সুশাসনের প্রচলিত ধারণা :

সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা ।  জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসন ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের সাথে সাথে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার হল সুশাসন। প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা অংশগ্রহণের সুযোগ, উন্মুক্ত, বাক স্বাধীনতা সহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সুরক্ষিত ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসনের উপস্থিতি, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতার নীতি কার্যকর থাকলে সে শাসন ব্যবস্থাকে সুশাসন বলা যায়। 

বিবর্তনের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের ধারনার সাথে সুশাসন ধারণাটি বিস্তৃতি লাভ করেছে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে-রাষ্ট্র জনগণের বন্ধু ও পরিচালকে পরিণত হয়েছে। এখন রাষ্ট্রের মুখ্য লক্ষ্য হয় জনগণের কল্যাণসাধন। এজন্য প্রয়োজন হয় সুশাসনের। সুশাসন হল শাসনব্যবস্থার উন্নতর ধারণা ও নবতর সংস্করণ। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক শাসন শব্দের পূর্বে সু-প্রত্যয় যোগ করে সুশাসন ধারণার উদ্ভব ঘটায়, যার অর্থ- নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তরের কথা উল্লেখ করে। যথা- ১. দায়িত্বশীলতা; ২. স্বচ্ছতা; ৩. আইন কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ।