Warning: session_set_cookie_params(): Cannot change session cookie parameters when session is active in /home/kajkhuji/public_html/includes/theme/head.php on line 2
KajKhuji - পহেলা বৈশাখ ইতিহাস

পহেলা বৈশাখ ইতিহাস

Category: Bangladesh
Posted on: Tuesday, September 19, 2017

Share:

পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এ উৎসবে অংশ নেয়।
সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সার্বজনীন উৎসব। সারা বিশ্বের বাঙালিরা এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা একে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবেও বরণ করে নেয়।

বাংলা সন প্রবর্তনের প্রেক্ষিত:
ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা আনায়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।

বাংলা সনের সূচনা

বাদশাহ আকবরের নির্দেশে এবং তার বিজ্ঞ রাজ-জ্যোতিষী আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মূলত বাংলা সনের উৎপত্তি হয়। তিনি হিজরি চান্দ্র বছরকে সৌরবছরে রূপান্তরপূর্বক বাংলা সন উদ্ভাবন করে ৯৯২ হিজরি অনুযায়ী ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ আকবরের কাছে পেশ করেন। এরপর ১৫৮৪ সালের ১০/১১ মার্চ বাদশাহ আকবর এক নির্দেশনামা জারি করে তার সিংহাসনের আরোহণকাল ১৫৫৬ সাল থেকে এর কার্যকারিতা আরোপ করেন। ৯৬৩ হিজরির মুহররম বাংলা বৈশাখ মাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় তার সাথে মিল রেখে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের সূচনা করা হয়। এভাবে ঘটে বাংলা সনের জন্মলাভ।

বাংলা নববর্ষ নির্ধারণ

বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের লক্ষ্যে বাংলা একাডেমি ১৯৬৩ সালে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে সুদক্ষ ও খ্যাতনামা পন্ডিত ও জ্যোতিবিদদের সমন্বয়ে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি গঠন করে। এ কমিটি বাংলা ১৩৭২ সনের ৫ ফাল্গুন মোতাবেক ১৯৬৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি কর্তৃক সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে ইংরেজি প্রতিবছরের ১৪ এপ্রিল তারিখে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। উল্লেখ্য, ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ সালের ১লা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এ নিয়ম পরিবর্তন করে রাত ১২.০০ টায় গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে।
নববর্ষ উদযাপন

১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ উৎখাত হয়ে যাওয়ার পর যুক্তফ্রন্ট সরকার ও তার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বাংলা নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে বাঙালিত্বের চেতনার তীব্র চাপে প্রাদেশিক সরকার বাংলা নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করে। এরপর বাংলা নববর্ষকে জাতীয় উৎসবে রূপ দিয়ে রমানার বটমূলে অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। সেই থেকে বাংলা নববর্ষ সকল বাঙালির জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বাংলা সনের বিভিন্ন নাম:

প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
সন গণনা পদ্ধতি যার মস্তিস্ক প্রসুত:

সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন।
সন গণনা শুরু যখন থেকে:

১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে।

বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন:

* ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা।
* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা।
* ঈশা খাঁর সোনারগাঁয় ব্যতিক্রমী মেলা- ‘বউমেলা’।
* সোনারগাঁ থানার পেরাব গ্রামের পাশে আয়োজিত ঘোড়ামেলা।

পার্বত্য জেলায়, আদিবাসীদের বর্ষবরণ:

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধান তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রত্যেকেরই বছরের নতুন দিনে উৎসব আছে। ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বর্তমানে তিনটি জাতিসত্তা একত্রে এই উৎসবটি পালন করে। যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি।