বিসিএস যাত্রার আত্মকথন

Category: BCS
Posted on: Tuesday, September 19, 2017

Share:

২০০৯ থেকে ২০১৫, মাঝে পেরিয়ে গেছে জীবনের ৬ টি বছর। সেই তৃতীয় বর্ষ থেকে স্বপ্নের জাল বোনা শুরু । তারপর ধাপে ধাপে তার বিস্তার। হাটি হাটি পা পা করে এতদিনে তা ধরা দিয়েছে। জীবন ও সময়ের তাগিদে প্রতিদিন কিছু কিছু স্বপ্ন মরে যায়, অনিচ্ছাকৃতভাবে মরে যেতে হয়, অযত্নে মারা যায় । প্রতিদিন কিছু কিছু স্বপ্ন আবার নির্বাসিত হতে বাধ্য হয়। আমার ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হয় নি। শুধু বিসিএস এর স্বপ্নটাকেই বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। ২৯ আগস্ট, রাত ৯.৩০ মিনিট, ২০১৫। জীবনের অনেক হিসাবনিকাশটাই পাল্টে দিয়েছে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জীবনটা সত্যি অনেক পাল্টে গেছে। অচেনা মানুষ চেনা হয়ে যায়, ফেসবুকে ১ দিনে ৩০০ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, দেখা হলেই সবাই মোবাইল নাম্বার চায়, বিগত কয়েক বছরেও যাদের সাথে কথা হয় নি তাদের ব্যাবহার দেখে মনে হয় অনেক দিনের পরিচিত…সত্যি অন্যরকম লাগছে। মাঝে মাঝেই মনে হত, বিসিএস এক দুঃসপ্ন, মরীচিকার নাম। এই দুঃসপ্ন বহন করতে করতে কতটা যে নিজেকে পুরিয়েছি, তা আমি সবচেয়ে ভাল জানি। দুঃখ বরই স্বেচ্ছাচারী, আর সুখ চিরদিনই স্বার্থপর। তাই মানুষ সুখী হলেই সবাই তার পাশে দাঁড়াতে চায়। আমি তাকে স্বার্থপরতা বলতে নারাজ। সবাই সম্ভবনার দিকে ছুটবে এটাই স্বাভাবিক। একটি আফ্রিকান প্রবাদ আছে……
Every Morning in Africa a gazelle wakes up,
It knows it must run faster than the fastest lion or it will be killed
Every morning a lion wakes up
It knows that it must outrun the slowest gazelle or it will starve to death
It doesn’t matter whether you are a lion or gazelle
When the sun comes up, you better start running……..

অনুবাদ করলে এ রকম দাড়ায়…
আফ্রিকায় প্রতিদিন ভোরে একটি হরিণ জাগছে
সে জানে যে সবচেয়ে দ্রতগামী সিংহের চেয়ে অবশ্যই তাকে জোরে দৌড়াতে হবে, নইলে তাকে মরতে হবে
প্রতিদিন সকালে একটি সিংহ জাগছে,
সে জানে, তাকে সবচেয়ে ধীর গতিসম্পন্ন হরিণের চেয়ে জোরে দৌড়াতে হবে, নইলে তাকে উপোসে মরতে হবে
আপনি হরিণ না সিংহ, তাতে কিছু যায় আসে না,
ভালো চাইলে সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করুন ।
Forest gump মু্ভির সেই নায়িকার মত…রান ফরেস্ট, রান । অনেক কিছু না বুঝেই, দৌড়াতে শুরু করেছিলাম। তবু, জীবন আমাকে ঠকায় নি, হয়ত একটু দেরি হয়েছে। আমি একটা বিষয় বিশ্বাস করতাম, Either you run the day or the day runs you….

ছিলাম আইনের ছাত্র, কেন যেন সহকারী জজ পদটির প্রতি কখনই তেমন একটা আগ্রহ বোধ করি নি। এই কেন এর উত্তর একান্তই আমার ব্যাক্তিগত। একবার পরীক্ষা দিয়েছিলাম, যথারীতি ৭ম জুডিসিয়ারিতে লিখিত পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম। আর দেই নি পরীক্ষা । ৩৩ তম বিসিএস এ ক্যাডার না পাওয়ার যন্ত্রণা গত দুইটি বছর কি করে যে বহন করেছি তা আমার চেয়ে কে বা ভাল জানে। ৩৪ তম বিসিএস এর ফলাফলে যখন পুলিশ ক্যাডারে নিজের রোল নাম্বারটি দেখতে পেলাম, তার পরের আধা ঘণ্টা আম্মুকে জড়ায়ে ধরে শুধু কেঁদেছি। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বারাবার ল্যাপটপ এর স্ক্রীন এ এডিমট কার্ডের সাথে রোল নম্বরটা মিলিয়ে দেখছিলাম। আরো নিশ্চিত হওয়ার টেলিটকে ম্যাসেজ পাঠলাম। না, আমি ভুল করি নি। পুরো রাত ঘুমোতে পারি নি। এই রকম রাত যেন সবার জীবনেই আসে, সেই কামনা করি। কয়েকজন মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নেই…সুশান্ত পাল, মাসরুফ হোসেন, সুজন দেবনাথ স্যার। স্যার, আপনাদের মত মানুষরা পাশে থাকলে, আমরা ছোটোরা একটু বড় হতে পারি। ৩৫-তম বিসিএস লিখিত আর দিচ্ছি না, এই ম্যারথন রেস থেকে নিজেকে একটু বিশ্রাম দিতে চাই । আরও তো অনেকটা পথ বাকি।

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী
৩৪ তম বিসিএস এ পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক এ কর্মরত।