Share:

শুরুতেই বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্নদের অভিনন্দন জানাচ্ছি যারা ইতোমধ্যে অনেকখানি পথ পার করে আগামীর কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ২০০ মার্কসের ভাইভা মার্কসের বিচারে বেশি না হলে ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষায় শেষ হাসিটা হাসার জন্য। আমি অনেককে দেখেছি যারা ৪-৫ বার প্রিলি ও লিখিত উভয় পরীক্ষায় পাশ করে ও শুধুমাত্র নন-ক্যাডারে এসে থেমে গেছে। তাই স্বল্পসময়ে সুন্দরভাবে ভাইভার প্রস্তুতি নেওয়াটা জরুরী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্নদের জন্য বলব,প্রিলি ও লিখিত মিলে আপনাদের প্রায় ৯০% প্রস্তুতি হয়ে গেছে। বিভিন্ন গ্রুপে আপনারা ইতোমধ্যে সুশান্ত পাল’ দা ও Mashroof Hossain ভাইয়ের সুন্দর সুন্দর লেখা পড়েছেন। আমি পূর্বে কোনদিন লিখিনি। আমি বন্ধু নিক্সন চৌধুরী’র অনুরোধে আমার ভাইভার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করার প্রয়াসে লিখছি। আমার লেখাটা হয়ত সুখপাঠ্য হবে না,তবু কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করব।

 

বন্ধুরা,আমি ৪র্থ বারে এসে বিসিএস এ চুড়ান্তভাবে কোয়ালিফাই করেছি,যদি ও আগের ৩ বারে নন-ক্যাডারে ছিলাম। এমনকি ১ম বার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা,নন-ক্যাডার পোস্টে নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত ছিলাম। যেহেতু ,আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলাম তাই ঐ পদে যোগদান করিনি। কিন্তু বিসিএস আমার অন্যতম ধ্যান-জ্ঞান ছিল ,তাই ৪র্থ বারে ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার থাকার পরে ও বিসিএস এ কোয়ালিফাই করেছি। সুতরাং কোন প্রকার হতাশা নয়,দুশ্চিন্তা বাদ দিন,ভাইভার জন্য লেগে পড়ুন।

 

আমার কাছে ভাইভার প্রস্তুতি মূলত দু’ধরনের ।

 ক. ভাইভার দিনের প্রস্তুতি

 খ. নলেজ বেইজইড প্রস্তুতি।

 

২য় ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অনেকে লিখেছে,আমি ও লিখব বলে আশা রাখছি।তবে আজ ভাইভার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে বলব। কারন ভাইভার দিনে অনেকে তাড়াহুড়ো করে পূর্বের সব প্রস্তুতি গুলিয়ে ফেলে।

 

ক.ভাইভার দিনের প্রস্তুতি

 

১. ভাইভার দিনে অনেককে দেখেছি জিনসের প্যান্ট পরে এসেছে। ভাইভার দিনের ড্রেস অবশ্যই ফরমাল ড্রেস হতে হবে। যেহেতু আপনি আগামী দিনের একজন ক্যাডার অফিসার হতে চলেছেন,সুতরাং আপনার পোশাকে সেটার ছাপ থাকাটা জরুরী। শীতের দিনে টাই-স্যুট পরতে পারেন। তবে স্যুট পরাটা একেবারে জরুরী না। গরমের দিনে (এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত ) হাফ হাতা শার্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আমার পরামর্শ এধরনের পরীক্ষায় ফুল হাতা শার্ট,শার্ট,ফরমাল প্যান্ট পরা উচিত। মেয়েরা শাড়ি অথবা সালোয়ার কামিজ পরতে পারেন। তবে রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে চটকদার রং এড়িয়ে যেতে হবে। আপনার পোশাক এমন হতে হবে যা বোর্ডের সদস্যদের মনে একধরনের পজেটিভ ইমপ্রেশান সৃষ্টি করে।

 

. চুল কাটা,দাড়ি-গোঁফ সেভ করা ,নখ কাটা থাকা ভাল। যারা দাড়ি রাখেন ,তাদের সুবিন্যস্ত হলে আরও সুন্দর ও মার্জিত দেখাবে।

 

৩. জুতা আগে থেকে পালিশ করে রাখবেন।

 

. টেনশান/নার্ভাসনেসের কারনে অনেকের শরীরে ঘাম হয়। তাদের ডিওডেরেন্ট ব্যবহার করা উচিত। কোন তীব্র  ঝাঁঝালো সুগন্ধি ব্যবহার না করাই ভাল।

 

মোট কথা আপনার আউট লুক দ্বারা বোর্ডের সদস্যদের মনে এই ধারনা সৃষ্টি করুন ,আপনি মার্জিত ও রুচিশীল।

 

. বাসা থেকে পিএসসি-তে আসার সময় অবশ্যই আপনার প্রবেশপত্র,সকল সার্টিফিকেট,সরকারি চাকুরিজীবি হলে কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পত্র,পূরনকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম,ভাইভার পত্র ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডুকুমেন্টস/কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি আগে থেকে সংগ্রহকরে রাখুন এবং শেষবারের মতো দেখে নিন। কোটাধারীদের অবশ্যই কোটার স্বপক্ষীর কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

 

. ভাইভার দিনের কমপক্ষ্যে ২টি জাতীয় দৈনিক- বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার গুরত্বত্বপূর্ন হেডলাইনস দেখতে হবে। সুযোগ থাকলে সকালের বিবিসি সংবাদ ও টেলিভিশন হেডলাইন সম্পর্কে জেনে আসতে হবে।

 

. যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পেীছাতে হবে। মনে রাখতে হবে-ঢাকা শহর জ্যামের শহর।

 

. ভাইভার দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। সুতরাং এক্ষেত্রে    প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার দরকার আসে ,না হলে পাছে মোবাইল নিয়ে টেনশান হতে পারে।

 

. ভাইভার সময় আঞ্চলিক ভাষা পরিহার করতে হবে। মুদ্রা দোষ পরিহার করতে হবে। এগুলো নেগেটিভ ইমপ্রেশান সৃষ্টি করে।

 

খুবই সাধারন কিন্তু গুরম্নত্বপূর্ন কিছু বিষয় তুলে ধরলাম। লেখাগুলো যদি কারও সামান্য উপকারে আসে তবে আমার ভাল লাগবে। গঠনমূলক সমালোচনা আশা করছি যা পরবর্তীতে লিখতে প্রয়াস সৃষ্টি করবে।

 

মোঃ রফিকুল ইসলাম

বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা)

৩১ তম ব্যাচ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।